মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৪ নভেম্বর : বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির অপ্রত্যাশিত তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জয়ের পর পুরো পাথারকান্দিতে যেন উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ—সবাই উচ্ছ্বাসে ভাসছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই আনন্দকে কেন্দ্র করে পাথারকান্দি মণ্ডল বিজেপির পক্ষ থেকে শ্রীপুরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত হয় বড়সড় বিজয়োৎসব।
দলীয় কর্মীরা পতাকা, পোস্টার নিয়ে রাস্তায় নামেন এবং চারদিকে সৃষ্টি হয় ঢাক-ঢোল, বাজি-পটকা আর কণ্ঠফাটানো জয়ধ্বনির সমাহার। জনতার উচ্ছ্বাসে মুহূর্তেই জমে ওঠে কার্যালয়ের সামনের এলাকা। ছোট বড় মিলিয়ে শতাধিক কর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠান রূপ নেয় আনন্দমেলায়। এতে দ্বিগুণ হল মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের পাথারকান্দিতে উপস্থিতিতে উৎসবের আনন্দ। বিজয়ের এই উৎসবে উপস্থিত ছিলেন পাথারকান্দির বিধায়ক এবং রাজ্যের মীন, পশুপালন ভেটেনারি ও পূর্ত দফতরের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে তিনি হাতে গেরুয়া পতাকা নিয়ে বিজয়ের আনন্দ ভাগ করে নেন। তাঁর উপস্থিতিতেই কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।ফলে জনপ্রিয় ৩ মন্ত্রীকে ঘিরে দলীয় কর্মীরা নরেন্দ্র মোদি, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ও কৃষ্ণেন্দু পালের নামে জয়ধ্বনি দিতে থাকেন। মুহূর্তের মধ্যে কার্যালয়ের সামনের পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক আবেগ, উচ্ছ্বাস আর কেন্দ্রের সম্বেলন। পরে বিজয়োৎসব শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন এই জয় মূলত বিহারবাসির জয়। উন্নয়ন, সুশাসন ও নরেন্দ্র মোদি সরকারের প্রতি জনগণের অগাধ আস্থা আবারও প্রমাণিত হলো। বিজেপির অগ্রযাত্রাকে কোনও অপশক্তি রুখতে পারেনি, পারবেও না।

মন্ত্রী আরও বলেন, জনগণ উন্নয়ন চায়, উন্নয়ন বিশ্বাস করে; আর সেই উন্নয়নই বিজেপি সরকার গত এক দশকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাই ফলাফল হবে এমন—তা আগেই অনুমান করেছিলেন তিনি।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী পাল বাবু কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে বলেন রাহুল গান্ধী যেখানেই প্রচারে গিয়েছেন, সেখানেই তাদের ভরাডুবি হয়েছে। জনগণ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে সুশাসন চাই, অস্থিরতা নয়। বিজেপির উন্নয়নযাত্রাই ভারতের ভবিষ্যৎ। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন যে দেশের রাজনৈতিক চিত্র দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে—মানুষ নিজেদের উন্নয়ন আর নিরাপত্তার স্বার্থে বিজেপির পাশে দাঁড়াচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, মোদিজির নেতৃত্বে আগামী দিনে গোটা দেশই গেরুয়াময় হয়ে উঠবে,বলেন মন্ত্রী পাল।এদিনের বিজয়োৎসবে মণ্ডল সভাপতি ও বিজেপির অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন। তাঁরা বলেন, এই ফলাফল পাথারকান্দির কর্মীদের জন্যও অনুপ্রেরণার। স্থানীয় সমস্যার স্থায়ী সমাধান, অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তা-ব্রিজ নির্মাণ, কৃষকদের সহযোগিতা এসব কাজ আগামী দিনে আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।

কর্মীদের অনেকেই জানান, মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের নেতৃত্বে গত কয়েক বছরে পাথারকান্দির উন্নয়নে বড় পরিবর্তন এসেছে। তাই বিহারের এই বিজয় স্থানীয় রাজনীতির ক্ষেত্রেও উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।বিজয়োৎসব শেষে দলীয় কর্মীরা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।কর্মীদের হাতে ছিল আতসবাজি, যুবকদের হাতে ছিল গেরুয়া পতাকা, আর প্রবীণ কর্মীরা খুশিতে চোখ ভিজিয়ে বলেন মোদি-শাহ-হিমন্তর নেতৃত্বে দেশ এগোতেই থাকবে। আর মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব পাথারকান্দি তথা গোটা বরাকের উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে। সন্ধ্যা নেমে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাথারকান্দির শ্রীপুর এলাকা উৎসবের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। মানুষের মুখে তখনও শোনা যাচ্ছিল জয় শ্রী রাম! ভারত মাতা কি জয়! মোদি, মোদি! হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কৃষ্ণেন্দু পাল জিন্দাবাদ।



