পুরোহিতের হাত ধরে উদ্বোধন স্বামী বিবেকানন্দ ক্লাবের কালীপুজো মণ্ডপ

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৮ নভেম্বর : পুজো মণ্ডপের উদ্বোধনে মন্ত্রী, বিধায়ক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানোই যেন বর্তমান সময়ে প্রচলিত রীতি। তবে সেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে ধর্মীয় ঐতিহ্য ও বৈদিক শাস্ত্রের মর্যাদাকে প্রাধান্য দিয়ে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করল পাথারকান্দির স্বামী বিবেকানন্দ ক্লাব। ক্লাবের ৩৮তম বর্ষের কালীপুজো মণ্ডপের উদ্বোধনের দায়িত্ব কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের হাতে না দিয়ে তুলে দেওয়া হয় এক শাস্ত্রজ্ঞ পুরোহিতের হাতে। ক্লাবের এই অভিনব উদ্যোগ স্থানীয় মহলে বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

রবিবার দীপাবলির সন্ধ্যায় বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, শঙ্খধ্বনি ও ঢাকের বাদ্যের মধ্য দিয়ে পুরোহিতের হাত ধরে শুভ উদ্বোধন হয় মণ্ডপের। পবিত্র সংস্কৃত মন্ত্রপাঠ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে গোটা পরিবেশ হয়ে ওঠে ভক্তিময় ও আধ্যাত্মিক। প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে ক্লাবের এই শাস্ত্রনির্ভর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসীর একাংশ। তাঁদের মতে, উৎসবের প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত রয়েছে ধর্মীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভক্তির মধ্যেই।

এবারের কালীপুজোয় ক্লাবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ প্রায় ৭০ ফুট উচ্চতার সোনালি রাজমন্দিরের আদলে নির্মিত এক দৃষ্টিনন্দন মণ্ডপ। স্থানীয় প্রসিদ্ধ মণ্ডপশিল্পী শিবু দাসের সৃজনশীল ভাবনা ও নিপুণ শিল্পকুশলতায় গড়ে উঠছে এই বিশালাকার মণ্ডপ। এর নকশা ও নির্মাণশৈলীতে ফুটে উঠেছে শিল্পীর অভিনব কল্পনা ও পরিশ্রমের ছাপ। পাশাপাশি শিলচর থেকে আনা বাহারি আলোকসজ্জায় রাতের অন্ধকারে ঝলমল করে উঠছে গোটা মণ্ডপ প্রাঙ্গণ। আলো ও শিল্পের অপূর্ব সমন্বয়ে দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এই আয়োজন।

ক্লাব কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কালীপুজো শুধুমাত্র জাঁকজমক কিংবা মণ্ডপসজ্জার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস, শাস্ত্রীয় ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক চেতনা। সেই ভাবনা থেকেই এবারের মণ্ডপ উদ্বোধনে রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে বৈদিক শাস্ত্রে পারদর্শী পুরোহিতকে বেছে নেওয়া হয়েছে। দেবীর আরাধনায় শাস্ত্রীয় বিধি ও ধর্মীয় পরম্পরার গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান তাঁরা।

ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার দীপাবলি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। একই সঙ্গে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে অর্ধশতাধিক দুঃস্থ ব্যক্তির মধ্যে কম্বল বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মানবিকতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

সব মিলিয়ে, পুরোহিতের হাত ধরে মণ্ডপ উদ্বোধন, প্রায় ৭০ ফুট উচ্চতার রাজমন্দিরের আদলে দৃষ্টিনন্দন মণ্ডপ নির্মাণ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য সংযোজনে এবারের কালীপুজোয় পাথারকান্দির স্বামী বিবেকানন্দ ক্লাব বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক আড়ম্বরের পরিবর্তে ধর্মীয় ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে ক্লাবের এই উদ্যোগ উৎসবের আবহে এক স্বতন্ত্র মাত্রা যোগ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *