মহান নভেম্বর বিপ্লব দিবস পালন শ্রীভূমিতে, সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এসইউসিআই-কে শক্তিশালী করার আহ্বান

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৭ নভেম্বর : যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান নভেম্বর বিপ্লব দিবস পালন করল এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) দলের করিমগঞ্জ জেলা কমিটি। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বানে প্রতি বছরের মতো এ বছরও ৭ নভেম্বর মহান নভেম্বর বিপ্লবের ১১০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় করিমগঞ্জে দলের জেলা কার্যালয়ের সামনে রক্তপতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পতাকা উত্তোলন করেন দলের করিমগঞ্জ জেলা কমিটির সম্পাদক অরুণাংশু ভট্টাচার্য। পরে দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে নভেম্বর বিপ্লবের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে বক্তব্য রাখেন তিনি।

বক্তব্যে অরুণাংশু ভট্টাচার্য বলেন, ১৯১৭ সালের নভেম্বর বিপ্লব মানবজাতির মুক্তির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে ভিত্তি করে এই বিপ্লব শোষণ ও পীড়নমুক্ত এক উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়েছিল। মানুষের দ্বারা মানুষের শোষণের দীর্ঘদিনের ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এই বিপ্লব ছিল এক ঐতিহাসিক আঘাত। মহান নেতা লেনিন মার্কসবাদের সৃজনশীল বিকাশ ঘটিয়ে এই বিপ্লবকে সফলতার পথে এগিয়ে নিয়ে যান। পরবর্তীকালে মহান স্টালিনের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়।

কাছাড় জেলা কমিটির পালন অনুষ্ঠান।

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর প্রথম সমাজতান্ত্রিক দেশ সোভিয়েত রাশিয়া শিল্প, সাহিত্য, সংগীত, সিনেমা, খেলাধুলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। পুঁজিবাদী সমাজে উৎপাদনের মূল উদ্দেশ্য যেখানে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন, সেখানে সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ব্যক্তি মালিকানার অবসান ঘটিয়ে মানুষের কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। মুনাফার অন্ধ প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সাধারণ মানুষের সুখ-সমৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও অশিক্ষার মতো সমস্যার উল্লেখযোগ্য অবসান ঘটেছিল এবং মানুষের নৈতিক মানেরও উন্নতি সাধিত হয়েছিল।

এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাশিয়া সফরের কথাও উল্লেখ করেন জেলা সম্পাদক। তিনি বলেন, রাশিয়া সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘রাশিয়ার চিঠি’ প্রবন্ধে যে অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধির কথা তুলে ধরেছিলেন, তা সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহের পরিচয় বহন করে।

সোভিয়েত ইউনিয়নে সমাজতন্ত্রের পতন ও পুঁজিবাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ঘটনা দুঃখজনক হলেও মার্কসবাদী চিন্তাধারায় এমন সম্ভাবনার কথা আগে থেকেই আলোচিত হয়েছে। মার্কসবাদী চিন্তানায়করা শ্রমিক শ্রেণিকে এ বিষয়ে বারবার সতর্ক করেছিলেন। তাঁর মতে, সমাজতন্ত্রের এই পরাজয় সাময়িক। বিশ্বের শ্রমিক শ্রেণি অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ হবে এবং পুঁজিবাদী শোষণব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বব্যাপী সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যথার্থ কমিউনিস্ট বিপ্লবী দল হিসেবে এসইউসিআই (কমিউনিস্ট)-কে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যেই সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠনের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *