৩ নভেম্বর : ডালাভরা শট, সুইচ হিট আর ওয়ান্টেড মোমেন্টে ম্যাজিক—ক্রিকেটবিশ্বের সেই ‘বিগ শো’ এবার আন্তর্জাতিক পিচ থেকে চিরতরে ওয়াকওভার নিলেন। ১৪ বছরের বর্ণময় ক্যানভাসে ইতি টেনে ব্যাগি গ্রিন ক্যাপটাকে সযত্নে আলমারিতে তুলে রাখার ঘোষণা দিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল (Glenn Maxwell)। খাদের কিনার থেকে দলকে টেনে তোলার রূপকথা লেখা যার স্বভাব, সেই অস্ট্রেলীয় অলরাউন্ডারের বিদায়ে মন খারাপের মেঘ বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে।
ম্যাক্সওয়েল তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে সাতটি টেস্ট খেলেছেন। ১৪৯টি ওয়ানডে এবং ১৩০টি টি-২০ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। সবমিলিয়ে ছয় হাজেরের বেশি রান রয়েছেওই অজি তারকার ঝুলিতে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং-এর মাধ্যমে ১৩৬টি উইকেট নিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপে (World Cup) ওমানের বিরুদ্ধে।

মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে সেই রাতের কথা কারই বা ভোলার জো আছে! এক পায়ে দাঁড়িয়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে গড়া সেই দ্বিশতরান তো নিছক কোনও ইনিংস ছিল না, ছিল পিনাকল অফ গ্রেটনেস। ৯১ রানে ৭ উইকেট খুঁইয়ে যখন ধুঁকছে দল, শরীর জুড়ে ক্র্যাম্পের যন্ত্রণা, টান ধরছে পেশিতে—ঠিক তখনই ক্রিজে নেমে একার কাঁধে অস্ট্রেলিয়াকে (Australia)জিতিয়েছিলেন ম্যাক্সি। ১৫ বা ২৩-এর বিশ্বকাপ জয় হোক কিংবা টি-২০ ফরম্যাটের বিধ্বংসী সব নকশা, তিনি মানেই ছিল দর্শকদের জন্য বাড়তি পাওনা। তবে সময়ের স্রোতে ছবিটা বদলায়। নতুন মুখের ভিড়ে জাতীয় দলের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে কোপ পড়েছিল চলতি বছরেই। ওয়ানডে থেকে আগেই সরেছিলেন, এবার টি-২০ কেও বিদ জানিয়ে আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের পাকাপাকি সমাপ্তি টানলেন ৩৮ ছুঁইছুঁই এই তারকা। দেশের জার্সিতে বাইশ গজের আলো নেভাতে পারেন তিনি, কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে বিগ ব্যাশের সবুজ ঘাসে তাঁর ব্যাট আরও কিছুদিন আগুন ঝরাবে, এইটুকুই যা সান্ত্বনা।




