বিসর্জন শোভাযাত্রার ঘটনার পর বিহু নৃত্যশিল্পীদের বাড়িতে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৫ অক্টোবর : দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে বিহু নৃত্যশিল্পীদের পাশে দাঁড়ালেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা পাথারকান্দির বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল। মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নির্দেশে রবিবার বদরপুরের বরগুল ও আদরকুনা গ্রামে গিয়ে সংশ্লিষ্ট নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে তাঁদের বাড়িতে সাক্ষাৎ করেন তিনি। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দিয়ে ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দিয়ে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস, অসমিয়া-বাঙালি সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

উল্লেখ্য, গত পরশু রাতে শ্রীভূমি শহরে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে এক অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় বিহু নৃত্যশিল্পীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ঘিরে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য সরকার বিষয়টি নিয়ে তৎপর হয়েছে। বিশেষত, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে অসমিয়া ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনও বিভেদ কিংবা অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।।মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রবিবার বরগুল ও আদরকুনা গ্রামে পৌঁছে শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পার্বত্য ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। শিল্পীদের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা শোনার পাশাপাশি তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পক্ষ থেকে সহমর্মিতার বার্তাও পৌঁছে দেন মন্ত্রী।।তিনি জানান, এ ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। কোনও শিল্পী কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, তা নিশ্চিত করতেও সরকার সচেষ্ট বলে তিনি আশ্বাস দেন।

মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, বিহু কেবল একটি নৃত্য কিংবা উৎসব নয়, এটি অসমের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতীক। অসমের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে বিহু ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসমিয়া ও বাঙালি—এই দুই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির কোনও প্রচেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থানই অসমের অন্যতম শক্তি। দীর্ঘদিন ধরে অসমিয়া ও বাঙালি জনগোষ্ঠী পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছেন। কোনও ধরনের উসকানি, হিংসা কিংবা বিভাজনের রাজনীতি যেন এই ঐতিহ্যবাহী সামাজিক বন্ধনকে দুর্বল করতে না পারে, সে বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।

ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মন্ত্রী শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, শিল্প-সংস্কৃতির কোনও নির্দিষ্ট ভাষা বা জাতির গণ্ডি নেই। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সৌহার্দ্যের সেতুবন্ধন তৈরি করে। তাই শিল্পীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসন ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব।

এদিকে, বিসর্জন শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির পর মন্ত্রীর এই উদ্যোগকে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে যাতে কোনও ভুল বোঝাবুঝি কিংবা দূরত্ব তৈরি না হয়, তার জন্য প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *