বরাক তরঙ্গ, ২১ অক্টোবর : মণিপুরের কাংপোকপি জেলায় তিন মেইতেই সাধারণ নাগরিককে হত্যার প্রতিবাদে বুধবার ইম্ফলে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও স্টান গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। পুলিশের এই পদক্ষেপে অন্তত ছয়জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।
ইম্ফল পশ্চিমের খুমান লাম্পাক স্পোর্টস কমপ্লেক্সে প্রথম মণিপুর রাজ্য পুমসে তায়কোয়ান্দো চ্যাম্পিয়নশিপে মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কোন্থৌজাম উপস্থিত থাকাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিন মেইতেই নাগরিকের হত্যাকাণ্ডে শোকের আবহের মধ্যে মন্ত্রীদের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা অনুষ্ঠানস্থলের দিকে মিছিল করে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
খুরাই লামলং সেতুর কাছে বিক্ষোভকারীরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে তিন মহিলা বিক্ষোভকারী আহত হন। রাজ্যে ধারাবাহিক হিংসার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান বিক্ষোভকারীরা।
উল্লেখ্য, সোমবার সকালে কাংপোকপি জেলার সুনুরোক পাহাড়ে অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের গুলিতে তিন মেইতেই জ্বালানি কাঠ সংগ্রহকারীর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা মণিপুরে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে ৪৮ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।
পুলিশি পদক্ষেপ সত্ত্বেও ইম্ফলের লামলং এলাকায় বহু বিক্ষোভকারী তাঁদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যান। হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা।

অন্যদিকে, ইম্ফল পূর্ব জেলার খাবেইসোই এলাকায় পৃথক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোন্থৌজাম এবং রাজ্যসভার সাংসদ এ সারদা দেবীর কুশপুতুল দাহ করেন বিক্ষোভকারীরা। হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তাঁরা রাজ্যব্যাপী ধর্মঘটের প্রতিও সমর্থন জানান।
গত ১৯ অক্টোবরের হামলার পর মণিপুরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জনসাধারণের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।



