মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২১ অক্টোবর : ধর্মীয় বিশ্বাস, আধ্যাত্মিক চেতনা ও বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সম্প্রদায়ের সমৃদ্ধ কৃষ্টি-সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে ধারণ করে গৌরবের ৮৫ বছরে পদার্পণ করল পাথারকান্দির ঐতিহাসিক প্রতাপগড় বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সার্বজনীন দুর্গোৎসব। এবারের পূজার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘জীবন্ত মানবদুর্গা’র মাধ্যমে পৌরাণিক কাহিনিতে বর্ণিত মহিষাসুর বধের দৃশ্যের অভিনব উপস্থাপনা। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে এই বিশেষ পরিবেশনা দেখতে পূজামণ্ডপে ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য দর্শনার্থী।
দেবী দুর্গার অসুরদলনী রূপ এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভশক্তির বিজয়ের বার্তা জীবন্ত পরিবেশনার মাধ্যমে তুলে ধরার এই উদ্যোগ দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে। পাশাপাশি নান্দনিক মণ্ডপসজ্জা, মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে মুখর হয়ে উঠেছে পূজাপ্রাঙ্গণ।

মহাঅষ্টমীর সকালে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন ও দেবীদর্শনের জন্য ভক্তদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি ও মন্ত্রোচ্চারণে সৃষ্টি হয় ভক্তিময় পরিবেশ। রাতভর আয়োজিত হরিনাম রাসলীলাও ভক্তদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ সৃষ্টি করে।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, মহানবমী উপলক্ষে দুপুরে মহাযজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে। যজ্ঞ শেষে ভক্তদের মধ্যে অন্নপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ‘মৃদঙ্গ ফাংনা’ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে।

পূজা কমিটির সভাপতি রাজু রাজ কুমার জানান, ৮৫ বছরের এই ঐতিহ্য শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক। নতুন প্রজন্মের কাছে পৌরাণিক কাহিনি এবং নিজস্ব সংস্কৃতিকে তুলে ধরতেই এবারের বিশেষ আয়োজন। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতায় আগামী দিনেও এই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

দীর্ঘ সাড়ে আট দশকের ঐতিহ্য ও অভিনব আয়োজনের সমন্বয়ে প্রতাপগড়ের এই দুর্গোৎসব পাথারকান্দি তথা বৃহত্তর বরাক উপত্যকায় বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।



