১৬ অক্টোবর : সৌদি আরবের পবিত্র শহর মক্কার একটি মসজিদের ভিতরে ‘অনৈতিক কাজ’ করার অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিল সৌদি আরব। বুধবার তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অভিযুক্তদের নাম নাজেরুল ইসলাম আবদুল বাসির এবং সিতি আখতার।
সৌদি সংবাদমাধ্যম আজেল এবং বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড মারফত এই খবর জানা গিয়েছে।
সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী ওই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তের পর তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আদালতে পেশ করা হয়।

আদালত তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয়। সংবাদমাধ্যম আজেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপরাধের গুরুত্ব এবং সময় ও স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনা করে আদালত ‘তা’জির’ আইনের অধীনে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে।
ইসলামি আইনে তা’জির হল এমন এক ধরনের শাস্তি, যার মাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিচারকের বিবেচনা করার অধিকার থাকে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ আদালতের রায় বহাল রাখে।
এরপর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি দিয়ে রাজকীয় নির্দেশ জারি করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, বুধবার মক্কাতেই ওই দুই বাংলাদেশি নাগরিককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তবে ঠিক কী ধরনের কাজের জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তা বিস্তারিতভাবে জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। এমনকী, ঠিক কবে এবং কোথা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেই তথ্যও প্রকাশ করা হয়নি।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা বজায় রাখা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ইসলামিক আইন কার্যকর করার বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘন করা বা এই ধরনের অনৈতিক কাজে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে, ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের অপরাধ করলে সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে মন্ত্রক।
তবে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এই মৃত্যুদণ্ড নিয়ে কোনও বিবৃতি প্রকাশ্যে আসেনি।



