ডিএসএ-র দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভায় উত্তেজনা, কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হল না

বরাক তরঙ্গ, ১৯ ডিসেম্বর : সভায় বারবার উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়া কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গেল না। শুক্রবার শিলচর ডিএসএ-র দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ দিন অতিরিক্ত জেলা কমিশনার আশিস উনহালের উপস্থিতিতে সভা শুরু হলেও তীব্র উত্তেজনার কারণে তা শেষ পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই ভেঙে যায়।

দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা (বিজিএম)-এর তারিখ নির্ধারণের উদ্দেশ্যে এদিন জিবি বৈঠক ডাকেন সংস্থার সচিব অতনু ভট্টাচার্য। বৈঠকের শুরুতে কোরাম পূর্ণ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোরাম সম্পূর্ণ হয়। তবে সভা চলাকালীন বারবার উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় আলোচনায় ব্যাঘাত ঘটে। পাঁচটি এজেন্ডা থাকলেও একটিতেও কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। সভায় অবজারভার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অসম অলিম্পিক সংস্থার সহ-সভাপতি রাজ কুমার কাকতি এবং সহ-সচিব জহিরুল হক।

সভা সুষ্ঠুভাবে এগোনো নিয়ে সন্দিহান অতিরিক্ত জেলা কমিশনার আশিস উনহাল একপর্যায়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার আগে তিনি বলেন, “আপনাদের অনুরোধেই আমি এসেছি। কিন্তু বারবার উত্তেজনা সৃষ্টি করে সভার কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এভাবে চললে সভার বাইরে গিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নিন, প্রয়োজনে পুলিশ বাহিনীও প্রস্তুত রয়েছে।”

সভা উত্তপ্ত হওয়ার মূল কারণ হিসেবে উঠে আসে সংস্থার সহ-সভাপতি প্রসেনজিৎ ভট্টাচার্যের বক্তব্য। তিনি অভিযোগ করেন, আগের কয়েকটি বৈঠকের সিদ্ধান্ত এখনও প্রসিডিংসে লিপিবদ্ধ হয়নি। তাঁর দাবি, সেগুলি আগে প্রসিডিংসে অন্তর্ভুক্ত করে সভায় অনুমোদন দিতে হবে, তারপরই বর্তমান সভার কাজ এগোনো সম্ভব। পাশাপাশি মামলা প্রত্যাহারের পরেই বিজিএম সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও তিনি বলেন।

এদিকে অসম অলিম্পিক সংস্থার কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই বিজিএম আয়োজন করতে হবে।

বৈঠক শেষে সচিব অতনু ভট্টাচার্য জানান, “আজকের সভা থেকে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। এখন পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা অলিম্পিক সংস্থার কর্মকর্তারাই জানাবেন।” অন্যদিকে অসম অলিম্পিক সংস্থার সহ-সভাপতি রাজ কাকতি বলেন, “এই জিবি সভা কার্যত নিষ্ফল। কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা গুয়াহাটি গিয়ে পুরো ঘটনার রিপোর্ট অলিম্পিক সংস্থার কাছে পেশ করব। এখন পরবর্তী সিদ্ধান্ত তাঁদের হাতেই রয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *