মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৩ অক্টোবর : দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পাথারকান্দির বর্মন সম্প্রদায়ের দুই পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল ফরেস্ট ল্যান্ড টাইটেল সার্টিফিকেট। শুক্রবার পাথারকান্দি সমজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারি নথিতে তাঁদের জমির অধিকার স্বীকৃতি পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলির মধ্যে দেখা দেয় আনন্দ ও স্বস্তির আবহ।
সমজেলা আয়ুক্ত ত্রিদিব রায় অনুপস্থিত থাকায় তাঁর পরিবর্তে অতিরিক্ত আয়ুক্ত সীমান্ত বিশ্বাস আনুষ্ঠানিকভাবে দুই পরিবারের প্রধানের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলির হাতে বসবাস ও চাষাবাদের জমির বৈধ সরকারি নথি না থাকায় নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। জমির অধিকার স্বীকৃত না থাকায় সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁদের অসুবিধা হয়েছে।
সীমান্ত বিশ্বাস জানান, রাজ্য সরকারের প্রতিশ্রুতি ও নির্ধারিত নিয়ম মেনে যোগ্য ভূমিহীন এবং বনভূমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী পরিবারগুলিকে পর্যায়ক্রমে জমির অধিকার সংক্রান্ত নথি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এরই অংশ হিসেবে লোয়াইরপোয়া গাঁও পঞ্চায়েতের কৈয়ারাংছড়া এবং খিলরবন্দের ক্যাপ্পিছড়া গ্রামের দুই পরিবারের হাতে এদিন সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। সরকারি নথি হাতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে যে জমিতে বসবাস ও জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন, সেই জমির বিষয়ে বৈধ সরকারি স্বীকৃতি পাওয়া তাঁদের কাছে অত্যন্ত আনন্দের। তাঁদের মতে, বহু বছরের অপেক্ষার পর এই নথি হাতে পাওয়া একটি বড় স্বপ্নপূরণের মতো।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির পাথারকান্দি মণ্ডল সভাপতি শশীবাবু সিনহা, প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য শান্তিলাল সিনহা এবং বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য ঋষিকেশ নন্দী। তাঁরা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারি নিয়ম মেনে যোগ্য পরিবারগুলিকে পর্যায়ক্রমে জমির অধিকার সংক্রান্ত নথি দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, জমির বৈধ কাগজপত্র না থাকলে মালিকানার অনিশ্চয়তার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও প্রশাসনিক পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যার সৃষ্টি হয়। ফলে ফরেস্ট ল্যান্ড টাইটেল সার্টিফিকেট পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলির সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, যাচাই-বাছাই ও নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যোগ্য পরিবারগুলির হাতে পর্যায়ক্রমে জমির অধিকার সংক্রান্ত নথি তুলে দেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। এদিনের হস্তান্তরকে পাথারকান্দির প্রান্তিক পরিবারের জমির অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



