১৭ সেপ্টেম্বর : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিনে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে বিজেপির মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’। জনজীবনে মোদির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে বিজেপি। দলীয় ঘোষণা অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে নানা সেবামূলক ও জনসংযোগমূলক কর্মসূচি চলবে।
১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জন্ম নরেন্দ্র মোদীর। তবে বিজেপি তাঁর ‘২৫ বছরের জনসেবা’ বলতে ধরছে ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর থেকে, যে দিন তিনি প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পরে টানা গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার পরে ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। বিজেপির বক্তব্য, এই ২৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনের মূল সুর ছিল ‘জনসেবা থেকে রাষ্ট্রসেবা’।
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন ৯ সেপ্টেম্বর দলের সদর দপ্তরে সাংবাদিক বৈঠকে এই অভিযানের ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন বিজেপির কাছে ‘সেবা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। এ বার ২৫ বছরের রাজনৈতিক সফর পূর্তির কারণে সেই কর্মসূচির পরিধি বাড়িয়ে এক মাস করা হয়েছে। দলের দাবি, মোদীর ২৫ বছরের জনজীবনের কাজ, উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এবং দেশ গঠনের প্রচেষ্টা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরাই এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অভিযানের সূচনায় দেশজুড়ে রক্তদান শিবির আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘সেবা মেরা যোগদান’ নামে একটি কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন সেবামূলক কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, জল সংরক্ষণ-সহ একাধিক জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী ৭ অক্টোবর বিশেষ গুরুত্ব পাবে এই অভিযান। ওই দিন হলো প্রশাসনিক ভূমিকায় মোদীর অভিষেকের বর্ষপূর্তি। ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মোদীর দায়িত্ব গ্রহণের ২৫ বছর পূর্ণ হবে। বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেদিন ‘সেবা জ্যোতি কলস যাত্রা’ আয়োজন করা হবে। গ্রাম ও শহরকে এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
অভিযানের শেষ পর্বে ১৭ অক্টোবর ‘সুশাসন সেবা সংবাদ’ নামে একটি বড় কর্মসূচির পরিকল্পনাও রয়েছে। দেশের চারটি বড় শহরে একইসঙ্গে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা। সেখানে বিভিন্ন এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও পঞ্চায়েত প্রধানদের যুক্ত করা হবে। মোদীর ২৫ বছরের রাজনৈতিক সফর নিয়ে একটি ভিডিও উপস্থাপনার পাশাপাশি ‘বিকশিত ভারত সংকল্প প্রস্তাব’ পেশ করা হবে। সমাপ্তি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ারও কথা রয়েছে।
দলের সাংগঠনিক স্তরেও এই কর্মসূচি নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিজেপির রাজ্য ও জেলা সংগঠনগুলিকে স্থানীয় স্তরে প্রচার এবং বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধু দলীয় কর্মীদের নয়, সাধারণ মানুষকেও বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করাই এই মাসব্যাপী অভিযানের কাঠামো।



