১২ সেপ্টেম্বর : আগের কয়েকটি ব্রিকস সম্মেলন এবং তার আগে-পরে একাধিক কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্মে নয়াদিল্লির মার্কিন ডলার নির্ভরতা কমাতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বার্তা দিয়ে আসছে দুই হেভিওয়েট পার্টনার রাশিয়া-চিন। ব্রাজ়িল প্রেসিডেন্ট লুলা তো সরাসরিই আর্জি জানিয়েছেন ডলার ‘বর্জনের’। সবারই দাবি, ব্রিকস দেশগুলি নিজেদের মধ্যে ‘ট্রেড সেটলমেন্টে’ ডলারের ব্যবহার বন্ধ করে দিলে, বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ‘দাদাগিরি’ বড়সড় ধাক্কা খাবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, চলতি দফায় অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করতে গিয়ে ভারতের অবস্থান কী হতে চলেছে?
সরাসরি এ বিষয়ে এখনও মন্তব্য করা হয়নি কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও স্তর থেকেই। কিন্তু বিশেষজ্ঞমহলের বড় অংশের দাবি, বিশ্ব বাণিজ্য মানচিত্রে ‘ডলার ডিপেন্ডেন্স’ বা ‘ডলার ডমিনেশন’ নিয়ে ভারত যে খুব ‘খুশি’, বিষয়টি মোটেই সে রকম নয়। একাধিক প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ্যেই সেই মনোভাব জানিয়েও দেওয়া হয়েছে মোদী সরকারের তরফে। কিন্তু ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য বা ঘরোয়া অর্থনীতির পরিকাঠামো যে ভিতের উপর দাঁড়িয়ে, তাতে ‘ডলার-ত্যাগ’ আপাতত ভারতের সিলেবাসের শেষ পাতার শেষ লাইনে ফাইন প্রিন্টস হিসেবেও ছাপা নেই।
ফলে বাকিদের খারাপ লাগলেও ভারত যে কোনও মতেই ডলার ‘ছাড়ার’ পক্ষপাতী নয়, সেই তেতো বড়িটাই চিনির রসে ডুবিয়ে সবার পাতে বেড়ে দিতে চলেছে নয়াদিল্লি। বাকিরা যতই চটে যাক না কেন, নাকের বদলে নরুন দেওয়ার মতো করে বরং ভারতের তরফ থেকে প্রস্তাব রাখা হতে পারে, বাণিজ্যিক এবং পর্যটনের লেনদেনে গতি আনতে সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির ডিজিটাল কারেন্সিগুলিকে সংযুক্ত করা হোক, যা ব্রিকস দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য সমঝোতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে পারে। এটা প্রযুক্তিগত ভাবে কতটা ‘কার্যকর’ বিকল্প, বাকিরাও হঠাৎ করে কেন এ রকম একটা ‘আউট অফ দ্য বক্স’ ভাবনার শরিক হতে রাজি হয়ে যাবে, সে সব পরের ব্যাপার। কিন্তু এই মুহূর্তে ডলার প্রশ্নে গোষ্ঠীর স্মল থেকে বিগব্রাদার’দের ভাবনার সঙ্গে তাল মেলানোর কোনও পরিস্থিতিতেই নেই ভারত। এবং তার যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য কারণও রয়েছে।
খবর : এইসময় অনলাইন।



