ভিডিও বানানোর ‘অপরাধে’ তরুণীকে খুনের অভিযোগ, গ্রেফতার বাবা ও দাদা

Spread the news

৯ সেপ্টেম্বর : পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে ভিডিও বানানোর ‘অপরাধে’ পরিবারের সম্মানহানি হয়েছে—এই অভিযোগে ২২ বছরের তরুণী সোফিয়া ফারুককে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠল তাঁর বাবা ও দাদার বিরুদ্ধে। গুজরাটের সারখেজে ঘটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। পুলিশের দাবি, হাতুড়ির আঘাতে মাথায় গুরুতর চোট দিয়ে তরুণীকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটিকে পথ দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় তিন মাস আগে এক পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে একটি ভিডিও তৈরি করেছিলেন সারখেজের বাসিন্দা সোফিয়া। সম্প্রতি সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসার পরই ক্ষোভের সূত্রপাত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরিবারের সম্মানহানির অভিযোগ তুলে সোফিয়ার উপর তাঁর বাবা মারধর করেন বলে অভিযোগ। এতে তাঁর দাদাও সঙ্গ দেন।

অভিযোগ, এরপর ১২ আগস্ট রাতে সোফিয়াকে তাঁর দাদার বাইকে করে সারখেজের গেলজিপুরার কাছে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর মাথায় পরপর হাতুড়ির আঘাত করা হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরদিন হাসপাতালে মৃত্যু হয় তরুণীর। তবে প্রথমে পুলিশকে ভিন্ন ঘটনা জানায় পরিবার। পরিবারের দাবি ছিল, ১২ আগস্ট রাতে দাদার বাইকে করে যাওয়ার সময় পিছন থেকে একটি গাড়ি ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনায় বাইক থেকে পড়ে গিয়ে সোফিয়ার মাথার পিছনে আঘাত লাগে এবং পরদিন হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে উঠে আসে একাধিক অসঙ্গতি। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ঘটনার রাতে সোফিয়াকে বাইকে করে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ।

পুলিশের দাবি, ঘটনায় সোফিয়ার বাবা ও দাদা দু’জনেরই ভূমিকা রয়েছে। দু’জনেই ফেব্রিকের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। হত্যাকাণ্ডের সময় তরুণীর দাদা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর বাবাও সেখানে গিয়ে খুনে সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ। ঘটনার তদন্ত চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *