বরাক তরঙ্গ, ৬ সেপ্টেম্বর : শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দশটি স্কুলের দশজন শিক্ষিকাকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করল সামাজিক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘খোঁজ’। শনিবার সন্ধ্যায় সুভাষনগর অগ্রণী ক্লাব হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনকে স্মরণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন বাংলা বিভাগের প্রধান বিশ্বতোষ চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টাউন ডেভেলপমেন্ট কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুজন দত্ত, অগ্রণী ক্লাবের সভাপতি মণি ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক শংকর দাস, ‘খোঁজ শিলচর’-এর সভাপতি ডাঃ এম মাসুম, সম্পাদক সজল লস্করসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রেডিয়ান মডেল স্কুলের শিক্ষিকা ভট্টাচার্য এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ‘খোঁজ শিলচর’-কে ধন্যবাদ জানান। প্রত্যাশার চেয়েও সুন্দরভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি সংগঠনের ভবিষ্যৎ সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। শিক্ষিকা সাহানাজ মজুমদারের বক্তব্যও অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। প্রায় ১২ মিনিটের বক্তব্যে তিনি ছাত্রছাত্রীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ‘খোঁজ শিলচর’-এর বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড দেখে সংগঠনের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে সমাজসেবামূলক কাজে সংগঠন তাঁকে ডাকলে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন সাহানাজ।

‘খোঁজ’-এর সভাপতি ডাঃ এম মাসুম বলেন, সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে আসছে এবং আগামী দিনেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। শিক্ষক দিবসের মাধ্যমে শিক্ষকদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরার সুযোগ পাওয়ায় তিনি গর্বিত। তাঁর কথায়, “শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড, শিক্ষার মাধ্যমেই সমাজকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।”
অন্যদিকে, বিশ্বতোষ চৌধুরী বলেন, একটি স্কুলকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাঁদের এদিন সম্মান জানানো হচ্ছে, তাঁরাই আগামী দিনের সমাজ ও দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তুলছেন। ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণে আরও বেশি করে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে সম্মানিত শিক্ষিকাদের মিষ্টিমুখ করিয়ে উত্তরীয় ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পরে তাঁদের হাতে চিকেন বিরিয়ানির প্যাকেট ও জলের বোতলও তুলে দেওয়া হয়।

এছাড়া সংগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড প্রচারে সহযোগিতার জন্য সোনাইয়ের সাংবাদিক শরিফ উদ্দিন লস্করকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অজয় ভট্টাচারী ও টিংকু দাশকেও ট্র্যাকস্যুট উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হয়। ‘খোঁজ শিলচর’-এর এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা। গুণী ব্যক্তিদের সম্মান জানানো এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা মানুষদের উৎসাহিত করা অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ বলেও মত প্রকাশ করেন তাঁরা। সন্ধ্যায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ শেষ হয়।
তাঁদের হাতে ‘ননীবালা ভট্টাচার্য, আরতিরানি দেব ও পূর্ণচন্দ্র পাল স্মৃতি’ স্মারক তুলে দেওয়া হয়। সংবর্ধিতরা হলেন শাস্বতী গোস্বামী (হিরণপ্রভাদের শিশুমন্দির স্কুল, মালিনী বিল, শিলচর), শ্বেতা নাথ (বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ হাইয়ার সেকেন্ডারী স্কুল), মণিদীপা চৌধুরী (প্রণবানন্দ হলিচাইল্ড হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুল), সুভদ্রা ভট্টাচার্য (রেডিয়ান মডেল স্কুল, সোনাই রোড), জাহিরা বেগম লস্কর (কিডস ওয়ার্ল্ড স্কুল মধুরবন্দ), রিয়া পাল (সাই বিকাশ বিদ্যা নিকেতন স্কুল, সোনাই রোড) বেবি দত্ত দে (ডেফডিলস হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল, মালুগ্রাম), ইমরানা বেগম (এমএসসি, বিএড, এমএ ইংলিশ, প্রাইভেট টিচার) সাহানাজ মজুমদার (এমএ ফিলিসফি প্রাইভেট টিচার) ও সুলতা রায় (প্রিন্সিপাল, নিউ ক্যামব্রিজ ইংলিশ স্কুল)



