বরাক তরঙ্গ, ৬ সেপ্টেম্বর : শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না, তাঁরা প্রজন্মের পথ দেখান, স্বপ্ন দেখতে শেখান। সেই আলোকবর্তিকাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ৬৫তম শিক্ষক দিবসে হাইলাকান্দি রোটারি ক্লাবের পক্ষ থেকে সাতজন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে প্রদান করা হল ‘রোটারি জ্ঞানজ্যোতি পুরস্কার’।
রোটারি ডিস্ট্রিক্ট ৩২৪০-এর উদ্যোগে এবং হাইলাকান্দি রোটারি ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় শনিবার সন্ধ্যায় ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত হয় এই বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠান। ক্লাব সভাপতি ড. কামাল হোসেন চৌধুরীর পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালা রুরাল কলেজের অধ্যক্ষ ড. হিমব্রত চক্রবর্তী।

প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। স্বাগত বক্তব্যে ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি তথা বর্তমান লিটারেসি চেয়ারম্যান বিজয়িনী ভট্টাচার্য ‘জ্ঞানজ্যোতি’ পুরস্কারের ভাবনা ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সমাজের অগ্রগতির নেপথ্যে শিক্ষকদের অবদানকে সম্মান জানানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
ক্লাব সভাপতি ড. কামাল হোসেন চৌধুরী বলেন, শিক্ষক দিবসকে ঘিরে রোটারি ক্লাব দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে আসছে। তবে এবারের ‘জ্ঞানজ্যোতি’ সম্মাননার প্রেক্ষাপট কিছুটা আলাদা। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহর—সর্বত্র শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে শিক্ষক-শিক্ষিকারা যে নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও মানবিকতার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন, তাঁদের সেই অবদানকে কুর্নিশ জানাতেই এই উদ্যোগ। তিনি জেলার শিক্ষক সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।
এরপর একে একে সাতজন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে শংসাপত্র, স্মারক, গাছের চারা ও উত্তরীয় প্রদান করে সম্মানিত করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন— লালা পিকে গার্লস হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষিকা মিত্রা ভট্টাচার্য, খাজুরাপাড়া এলপি স্কুলের সহকারী শিক্ষক জুলফিকার হোসেন খান, বেতছড়া বনপল্লী আপগ্রেড হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক ব্রহ্মপ্রসাদ দাস, ৫২৩ নম্বর শ্রীচৈতন্য বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক শ্যাম সুন্দর দে, কমলা গার্লস এলপি স্কুলের সহকারী শিক্ষক সৈয়দ আহমেদ লস্কর, সেন্ট মেরিজ হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষিকা মিতালি ভট্টাচার্য এবং রয়েল হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক রেমজউ মার।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি অসিতকুমার পাল, বিভাভূষণ চক্রবর্তী, কানাইয়া সারদা, শংকর চৌধুরী, সম্পাদক দীপক দে, প্রাক্তন সম্পাদক লুৎফর রহমান বড়ভূইয়া, ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী ও ড. নজমুল হক মাঝারভূঁইয়া শিক্ষকতার গুরুত্ব ও সমাজ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
মুখ্য অতিথি ড. হিমব্রত চক্রবর্তী রোটারি ক্লাবের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সহজ-সরল ভাষায় বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, জ্ঞান এমন এক আলো, যা একজনের হাতে জ্বলে অসংখ্য মানুষের জীবন আলোকিত করতে পারে। সেই জ্ঞান ও আলোর বাহক শিক্ষকদের সম্মান জানানো নিঃসন্দেহে একটি মহৎ উদ্যোগ। শিক্ষকদের সম্মাননা, শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতার আবহে সন্ধ্যার অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে আরও অর্থবহ ও স্মরণীয়।




