৫ সেপ্টেম্বর : নেপালের ভয়াবহ বন্যার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনও বহু পরিবারের কাছে নিখোঁজ সন্তানদের কোনও খবর নেই। ধ্বংসস্তূপের নীচে কী রয়েছে, সেই হিসাব করার মতো মানসিক অবস্থাও নেই তাঁদের। প্রতিটি পরিবারের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—সন্তানরা কোথায়? তারা কি নিরাপদে আছে? ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় অন্তত ৬০০ শিশুর এখনও কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। বন্যার জলের তোড়ে বহু স্কুল সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় শিশুদের উপস্থিতি ও অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়া। দুর্গত এলাকাগুলিতে টেলিকম ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিপর্যস্ত হয়ে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কোনও শিশু নিরাপদে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতেও প্রশাসনের বেগ পেতে হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যায় অন্তত ১২টি স্কুল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে চারটি রসুয়া এবং আটটি নুয়াকোট জেলায় অবস্থিত।
২৬ অগস্টের ভয়াবহ বন্যার পর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে। জলস্তর ও দুর্যোগের তীব্রতা কিছুটা কমলেও দুর্গত এলাকাগুলিতে এখন নেমে এসেছে উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা। নিখোঁজ সন্তানদের সন্ধানে পরিবারগুলি অপেক্ষা করছে, স্থানীয়ভাবে খোঁজ চালাচ্ছে এবং প্রশাসনের কাছ থেকে নিশ্চিত খবরের আশায় দিন গুনছে।
যোগাযোগ পরিকাঠামো বিপর্যস্ত থাকায় উদ্ধার ও শনাক্তকরণের কাজও কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলিকে স্কুল, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পরিবার এবং বিভিন্ন উদ্ধারকারী দলের কাছ থেকে পাওয়া অসম্পূর্ণ তথ্যের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। শিশুদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে স্কুলগুলি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায়। সাধারণত কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর শিশুদের উপস্থিতি যাচাই এবং তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় স্কুল। কিন্তু সেই পরিকাঠামোই ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় নিখোঁজ শিশুদের সঠিক তালিকা তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নুয়াকোট শিক্ষা উন্নয়ন ও সমন্বয় ইউনিটের প্রধান সূর্য বাহাদুর খতরি ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’-কে জানিয়েছেন, নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের নির্ভরযোগ্য তালিকা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল না হওয়ায় নিখোঁজ শিশুদের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
খতরির দাবি, কিছু নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে ইতিমধ্যেই খুঁজে পাওয়া গেলেও বিভিন্ন স্কুল থেকে এখনও নতুন করে নিখোঁজ শিশুদের খবর আসছে। তাঁর প্রাথমিক অনুমান, শুধু নুয়াকোট জেলাতেই অন্তত ৩০০ শিক্ষার্থীর এখনও কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
উদ্ধারকাজ এগোলেও নিখোঁজ শিশুদের পরিবারগুলির উদ্বেগ কাটছে না। যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়া এবং দুর্গত এলাকায় প্রশাসনের সরেজমিনে যাচাই সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের অপেক্ষা করতে হবে নিশ্চিত খবরের জন্য।



