দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১৪ ডিসেম্বর : শিলচরের পাবলিক স্কুল রোড কাঠিয়া বাবা আশ্রমের কাছে আনটাইড ফান্ড ২০২৪–২৫ এর আওতায় নির্মিত সীমানা প্রাচীরের উদ্বোধন করেন শিলচরের বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী। এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ১০ লক্ষ টাকা এবং নির্মাণকারী সংস্থা কনস্ট্রাকশন কমিটি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় নাগরিক ও সমাজসেবীরা বিধায়কের উদ্যোগের প্রশংসামুখর হয়ে ওঠেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দীপায়ন চক্রবর্তী মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়নমূলক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আশ্রমের জন্য কিছু করতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। তাঁর বক্তব্যে নিম্বার্ক সম্প্রদায় ও সংঘ সমাজের অবদানের পাশাপাশি গরু সুরক্ষা বিল ২০২১ এবং অসম ক্যাটল প্রিজারভেশন বিল ২০২১-এর গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বিধায়ক আরও জানান, শিলচরের প্রায় সবকটি মন্দিরই তাঁর তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছে, যা সত্যিই হৃদয়স্পর্শী। প্রায় সব ওয়ার্ডেই ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পরিকাঠামোগত উন্নয়নের প্রসঙ্গে দীপায়ন চক্রবর্তী বলেন, বিধায়ক হিসেবে তিনি ট্রেঞ্চিং বা ডাম্পিং গ্রাউন্ডে যাওয়ার রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যেখানে আগে কোনও সীমানা প্রাচীর ছিল না। বর্তমানে সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মিত হয়েছে। তিনি কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, “তারা এই এলাকার জন্য কিছুই করতে পারেনি।” আগামী দেড় বছরের মধ্যে ট্রেঞ্চিং গ্রাউন্ডকে আরও সভ্য ও সুপরিকল্পিত করে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
আশ্রম ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মৃদুল মজুমদার বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই আশ্রমের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। শিলচরে কাঠিয়া বাবা, যিনি ধনঞ্জয় দাস কাথিয়া বাবা নামেও পরিচিত, এই আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রাক্তন শিলচর বিধায়ক দিলীপকুমার পাল ৩ লক্ষ টাকা, প্রাক্তন শিলচর সাংসদ রাজদীপ রায় ১০ লক্ষ টাকা এবং বর্তমান বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী ১০ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন। ২০২২ সালের বন্যায় আশ্রমের সীমানা প্রাচীর ভেঙে পড়েছিল। প্রাপ্ত অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়েছে এবং গত পাঁচ বছর ধরে বিধায়ক আশ্রমের জন্য অত্যন্ত ভালো কাজ করে চলেছেন। মহিলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষা ড. গীতা দত্ত বলেন, ১৯৬২ সালে ধনঞ্জয় দাস কাথিয়া বাবা শিলচরে এই আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং রজনী সাহা আশ্রমের জন্য জমি দান করেছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হংসদাসজি মহারাজ, ড. দীপঙ্কর দে, আশ্রমের সম্পাদক দেবব্রত পাল (অমর), নারায়ণ দাস, দেবাশিস সোম, অজিত দেব, আরতি রায়, স্বপ্না চৌধুরী, আকাশ পাল, সঞ্জয় রায়, সন্তনু রায় এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। এই উন্নয়ন কাজ শিলচরের ধর্মীয় ও সামাজিক স্থানগুলোর সুরক্ষা ও সৌন্দর্যবর্ধনের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।



