বরাক তরঙ্গ, ২৯ আগস্ট : তামিলনাড়ুতে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সোনাবাড়িঘাটের ভাড়াটে তথা মণিপুরের জিরিবাম লালপানির বাসিন্দা মানিক উদ্দিন লস্কর ও তার স্ত্রী ভগবতী মাঝি ওরফে আয়েশা বেগমকে। গ্রেফতার করল মণিপুর ও তামিলনাড়ু পুলিশ। মণিপুর রাজ্যের জিরিবাম ও ননে থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে জিরিবাম থেকে মানিক শনিবার ভগবতী মাঝিকে গ্রেফতার করা হয়েছে । জানা যায়, জিরিবাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থিংগুজাম টিকেন্দ্র সিংয়ের নেতৃত্বে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (আইনশৃঙ্খলা) থ. কমলজিৎ সিং, এমপিএস-এর নির্দেশনায় পুলিশের একটি দল গঠন করা হয়। সহকারী উপ-পরিদর্শক এস সুরজ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন দলটি স্থানীয় বিভিন্ন এলাকায় নিজস্ব সূত্র মারফত তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। সমগ্র অভিযানের তদারকিতে ছিলেন জিরিবাম জেলার পুলিশ সুপার প্রখর পাণ্ডে, আইপিএস।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ নিজস্ব সূত্রে সন্দেহভাজনদের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে জিরিবামের লালপানি থেকে রশিদপুরগামী আন্তঃগ্রাম সড়ক এলাকা থেকে রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে মানিক উদ্দিন লস্করকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে শনিবার সকাল সাড়ে এগায়রোটায় জিরিবামের কাশিমপুর গ্রাম থেকে ভাগবতী মাঝি ওরফে আয়েশা বেগমকেও গ্রেফতার করা হয়। জিরিবাম জেলা পুলিশ ও তামিলনাড়ু পুলিশের যৌথ দল এই অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য টি-৮ গুডুভাঞ্চেরি থানার স্টেশন হাউস অফিসারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট তামিল পুলিশের দল সোনাবাড়িঘাটে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছিল। এরপর জিরিবামেও পৌঁছে। মণিপুর পুলিশের সঙ্গে কথা হয়। অবশেষে সফল হল দুই রাজ্যের পুলিশের দল।
উল্লেখ্য, আগরা ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশনে তামিলনাড়ু এক্সপ্রেসের একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে পচাগলা মানুষের দেহাংশ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নেমে গুডুভাঞ্চেরির একটি বাড়িতে পৌঁছেছে সরকারি রেল পুলিশ (জিআরপি) ও স্থানীয় পুলিশ। ওই বাড়ি থেকে আরও কিছু দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে বলে অভিযোগ।
গত ৫ আগস্ট ভোর ৫টা নাগাদ আগরা রেলস্টেশনে ১২৬২১ নম্বর তামিলনাড়ু এক্সপ্রেসের পিছনের সাধারণ কামরায় একটি লাল ট্রলি ব্যাগের ভিতর থেকে মাথাবিহীন ও পচাগলা দেহাংশ উদ্ধার হয়। এরপর আগরা রেল পুলিশ মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে।
মৃতার পরিচয় হায়াতুন নেসা (৩৮) হিসেবে জানা গেছে। তিনি ওড়িশার জগৎসিংহপুরের বাসিন্দা এবং জহুর খানের স্ত্রী। শহরের একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন তিনি। আগরা রেল পুলিশের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর চেন্নাই সেন্ট্রাল জিআরপি এবং রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের (আরপিএফ) ক্রাইম ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ (সিআইবি) চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশনের ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। ফুটেজে এক পুরুষ ও এক মহিলাকে একই ধরনের একটি ট্রলি ব্যাগ নিয়ে তামিলনাড়ু এক্সপ্রেসে উঠতে দেখা যায়। ট্রেনটি ৩ আগস্ট রাত ১০টা নাগাদ চেন্নাই সেন্ট্রাল থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর পুলিশ সুপার পি. রাজনের নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী দল ওই দু’জনের সন্ধান পায়। তদন্তে জানা যায়, তারা গুডুভাঞ্চেরিতে থাকছিল।
এরপর পুলিশ ওই এলাকার মাসুতি স্ট্রিটে একটি বাড়ির সন্ধান পেয়ে গুডুভাঞ্চেরি থানার পুলিশকে খবর দেয়। ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি বড় পাত্রের ভিতর মহিলার আরও কিছু দেহাংশ পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের সন্দেহ, মৃতা নিশার সঙ্গে ওই দুই সন্দেহভাজন—অসমের মানিক উদ্দিন লস্কর এবং স্ত্রী ওড়িশার ভগবতী মাঝি—ওই বাড়িতে থাকতেন। ঘটনার পর থেকে দু’জনই পলাতক ছিলেন।
মহিলার ছেলের অভিযোগের ভিত্তিতে নিখোঁজ মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়েছিল। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে বিশেষ পুলিশ দল গঠন করা হয়েছিল।



