বন্দুকধারীর হামলায় একই পরিবারের ৪ শিশুসহ ৮ জন নিহত

Spread the news

২৬ আগস্ট : যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যের বিলিংসের কাছে একটি বাড়িতে গুলির ঘটনায় একই পরিবারের আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার শিশু রয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় পারিবারিক নৈশভোজের সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পরে বাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। পরিবারের এক সদস্যের ভাষ্য, ঘটনার সময় নিহতদের একজনের বাবা কর্মস্থলে ছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে জরুরি সেবায় ফোন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বাড়ির পেছন দিক থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়। এর কিছুক্ষণ পর বাড়িটি আগুনে পুড়ে যেতে শুরু করে। পরে সেখানে একাধিক ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৪ বছর বয়সী অ্যালান স্মিথ পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালান। নিহতদের মধ্যে তাঁর বাবা-মা, দাদি, বোন এবং বোনের সন্তানসহ পরিবারের আরও সদস্য ছিলেন। চার শিশুর বয়স ছিল ৭ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে স্মিথকে তাঁর বাবা-মায়ের বাড়ি ছেড়ে যেতে বলা হয়েছিল বলে পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী ল্যান্ডন ঘেকিয়েরে ও ১২ বছর বয়সী শার্লট ঘেকিয়েরের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের মা মেগান ঘেকিয়েরেও নিহত হয়েছেন। মেগানের আরও দুই সন্তান—১৩ বছর বয়সী ওউয়েন ও ৭ বছর বয়সী ক্লোয়িও প্রাণ হারিয়েছে। পরিবারের চার প্রজন্মের সদস্য এই হামলায় নিহত হয়েছেন বলে এপির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, হামলার সময় ১২ বছর বয়সী শার্লট জরুরি নম্বরে ফোন করে সাহায্য চেয়েছিল। পরে সে-ও হামলাকারীর গুলিতে নিহত হয়। পরিবারের সদস্যরা তাঁর সাহসিকতার কথা স্মরণ করছেন।

ঘটনার সময় অ্যাডাম ঘেকিয়েরে একটি এয়ার শোতে উদ্ধারকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। জরুরি যোগাযোগব্যবস্থায় কাছাকাছি একটি গুরুতর ঘটনার খবর শুনে তাঁর সন্দেহ হয়, ঘটনাটি তাঁর শ্বশুরবাড়ির এলাকায় কি না। তিনি পরিবারের সদস্যদের ফোন করলেও কোনও সাড়া পাননি। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সক্রিয় হামলার আশঙ্কায় তাঁকে বাড়ির কাছে যেতে দেওয়া হয়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

হামলার পর সন্দেহভাজন অ্যালান স্মিথ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যান। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর গুলির ক্ষত ছিল আত্মঘাতী। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি পারিবারিক বিরোধ থেকে শুরু হয়েছিল এবং এটি এলোমেলো কোনো হামলা ছিল না; তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও তদন্তাধীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *