রাজস্থানে সিজেপির পরিদর্শনের পর গোয়ালঘর থেকে সরল বিদ্যালয়

Spread the news

৬১১ সরকারি স্কুলের ভবন নেই, বলছে সরকারি তথ্য

২৩ আগস্ট : গোয়ালের ভিতর মাটিতে বসে ১৮ জন খুদে। সামনে খোলা বই। রাজস্থানের জয়পুরে এভাবেই চলছিল সরকারি প্রাথমিক স্কুল! ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচিতে রাজস্থানের শিক্ষাব্যবস্থার এই বেহাল ছবি প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এরপরই তড়িঘড়ি এই স্কুলটি নিকটবর্তী একটি বাড়িয়ে সরানো হল। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্যে শনিবার সকাল থেকে ওই বাড়িতে পঠনপাঠন শুরু হয়েছে। ওই স্কুলটি সরানোর জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। শুক্রবার সেখানে যাওয়ার পরেই সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও বাকি সদস্যদের উপর বিজেপি কর্মীরা আক্রমণ করে বলে অভিযোগ। এরইমধ্যে খোদ রাজস্থান সরকার বিধানসভায় জানাল, কোনো ভবন ছাড়াই রাজ্যে চলছে ৬১১ টি সরকারি স্কুল। এর মধ্যে ১০টি মেয়েদের। রাজধানী জয়পুরে ৩৮টি স্কুলের ভবন নেই। এছাড়া ২ হাজার ৪৭টি সরকারি স্কুলে নেই শৌচাগার। ১ হাজার ৪৯টি স্কুলে পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই।

ঝালওয়ারের স্কুল ভবন ভেঙে সাত জন পড়ুয়ার মৃত্যুর পর একটি সমীক্ষা চালানো হয়। তাতেই ওই বিষয়টি উঠে এসেছে। যদিও এর জন্য বিজেপি সরকার পূর্বতন কংগ্রেস আমলকেই দায়ী করেছে। বিজেপির অভিযোগ, অশোক গেহলটের কংগ্রেস সরকার যে ‘পাপ’ করেছে, তা ঠিক করার চেষ্টা হচ্ছে। যদিও ক্ষমতায় আসার তিন বছর পরেও কেন স্কুলগুলির জন্য ভবন তৈরি করা গেল না, তা নিয়ে অবশ্য বিজেপি চুপ।

রাজস্থান সরকারের দাবি, স্কুল সংস্কারের জন্য ৫৫০ কোটি টাকা এবং নতুন ভবন তৈরির জন্য ৪৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া রাজ্যের সব স্কুলের বিভিন্ন কাজের জন্য প্রতি বছর আড়াই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। যদিও বিরোধী দলনেতা টিকারাম জুলি রাজস্থান সরকারের দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ৩ হাজার ৭৬৮টি সরকারি স্কুল ভবনকে ‘বিপজ্জনক’ ঘোষণা করা হয়েছে। সেগুলির বেশিরভাগই বন্ধ বা স্থানান্তরিত করতে হয়েছে। সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও অভিযোগ তাঁর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *