২৩ আগস্ট : তিনদিন ধরে তালাবদ্ধ ঘর থেকে বের হল চারটি লাশ। অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী ও দুই সন্তানের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটি সংঘটিত হয় বাংলাদেশের রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায়। প্রাথমিকভাবে তাদের হত্যার পর লাশগুলো বাড়িতে ফেলে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
শনিবার রাত ১১টার দিকে মাছুয়াপাড়া মন্দিরসংলগ্ন বাড়িটি থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)।
পুলিশ জানায়, গণপতি চক্রবর্তী পরিবার নিয়ে বাড়িটির দোতলায় থাকতেন। নিচতলা নির্মাণাধীন। তিনদিন ধরে বাড়িটি তালাবদ্ধ দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে স্বজনরা কয়েকদিন ধরে পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে বাড়িতে এসে তালা ঝুলতে দেখেন। তারা পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করেন। দোতলার সিঁড়ির কাছে গণপতি, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায়। একটি কক্ষের খাটের নিচ থেকে ছেলে প্রীয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থলে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ তছনছ অবস্থায় পাওয়া যায়। টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানও ভাঙা ছিল। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া যায়। এসব কারণে ডাকাতির বিষয়টিও তদন্ত করছে পুলিশ। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।
রংপুর মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, মরদেহগুলোর গলায় দড়ি বা কাপড় প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধে হত্যার ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি দুই থেকে চার দিন আগে ঘটে থাকতে পারে বলেও ধারণা করছে সিআইডি।
গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর রংপুর জেলা স্কুল থেকে অবসর নেন। তাঁর মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করেছেন। ছেলে প্রীয়ম ছিল রংপুর জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



