গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় মহাকাশ দিবস উদযাপন

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২২ আগস্ট : জাতীয় মহাকাশ দিবস উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগ ও স্টারগেজিং ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চন্দ্রযান-৩ এর বিক্রম ল্যান্ডারের সফল অবতরণের স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞান, মহাকাশবিজ্ঞান ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ এবং বৈজ্ঞানিক কৌতূহল সৃষ্টি করা।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পদার্থবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ইন্দিরা দে-র স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায়ের উদ্বোধনী বক্তব্য অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাকাডেমিক রেজিস্ট্রার ড. অভিজিৎ নাথ এবং ডিএসডব্লিউ ড. জয়দীপ পাল।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জার্মানির গ্যোটিঙ্গেনে অবস্থিত ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর সোলার সিস্টেম রিসার্চের পোস্টডক্টরাল ফেলো ড. জন্মেজয় সরকারের আমন্ত্রিত বক্তব্য। তিনি সমকালীন মহাকাশ ও সৌরজগতের গবেষণার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করেন এবং শিক্ষার্থীদের মহাকাশবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের নতুন নতুন গবেষণাক্ষেত্র সম্পর্কে উৎসাহিত করেন। বক্তৃতার পর অনুষ্ঠিত হয় রাতের আকাশ পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি। এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন মহাজাগতিক বস্তুকে পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি মহাবিশ্বের বিস্ময়কর জগতের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।

অনুষ্ঠানটি পদার্থবিদ্যা বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ ড. রাজর্ষি কৃষ্ণ নাথ, ড. অরিন্দম রায়, ড. ভাস্কর গোস্বামী, ড. জ্যোতির্ময় দেব, কৃষ্ণ সরকার, বিকি প্রসাদ ও স্বর্ণজ্যোতি পালের সক্রিয় উদ্যোগ ও সমন্বয়ে এবং সহযোগী অধ্যাপক ইন্দিরা দে-র নির্দেশনায় অনুষ্ঠিত হয়।

গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ৪৫ জন শিক্ষার্থী ও অংশগ্রহণকারী অনুষ্ঠানে উৎসাহের সঙ্গে যোগ দেন। তাঁদের সক্রিয় উপস্থিতি মহাকাশবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি আন্তঃবিভাগীয় আগ্রহের প্রতিফলন ঘটায়।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর ২৩ আগস্ট জাতীয় মহাকাশ দিবস পালিত হয়। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য—“Towards Viksit Bharat – Innovating, Collaborating and Aspiring to Global Space Leadership”। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতের মহাকাশ অভিযানের উল্লেখযোগ্য সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানচর্চা, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশ গবেষণায় উৎসাহিত করার বার্তা দেওয়া হয়। শেষে ড. জ্যোতির্ময় দেবের ধন্যবাদজ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *