বরাক তরঙ্গ, ৫ আগস্ট : হাইলাকান্দির কাটলিছড়া থানার অন্তর্গত অলইছড়ায় নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বুধবার আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। এই নিয়ে মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল পাঁচ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, নিহত কিশোরীকে ঘিরে একাধিক যুবকের মধ্যে সম্পর্কজনিত বিরোধ থেকেই এই নৃশংস ঘটনার সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ স্পষ্ট করেছে, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সমস্ত বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক প্রমাণ যাচাইয়ের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
হাইলাকান্দির পুলিশ সুপার অমিতাভ সিনহা জানান, বুধবার সকালে শিলচর থেকে মনোজ দাস ওরফে রাজদীপ (২৩) এবং কাটলিছড়া থেকে ধিরাজ দাস (১৮)-কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁদের আদালতে তোলা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর আগে সোমবার এই ঘটনায় তিন কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে দু’জন বর্তমানে ছয় দিনের পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে এবং এক নাবালক অভিযুক্তকে জুভেনাইল হোমে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত কিশোরীর সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া দুই যুবকেরই প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে দাবি করেছে অভিযুক্তরা। একই সময়ে ওই কিশোরীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক ছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানানো হয়েছে। এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া দ্বন্দ্বই হত্যার সম্ভাব্য কারণ হতে পারে বলে তদন্তকারীদের ধারণা। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, এই মুহূর্তে এটিকে কেবল একটি তদন্ত-ভিত্তিক অনুমান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, ঘটনার রাতে পরিবারের অন্য সদস্যরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে প্রধান অভিযুক্তের সঙ্গে কিশোরীর দেখা করার পরিকল্পনা হয়েছিল। তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত আগে থেকেই বাড়ির পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত ছিল এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কিশোরীও বাড়ির অবস্থা সম্পর্কে তাকে জানাচ্ছিল।
এদিকে, মঙ্গলবার প্রকাশিত ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়ার পর তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসকদের একটি দল ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে এবং পুরো প্রক্রিয়ার ভিডিয়োগ্রাফিও করা হয়। পাশাপাশি জেলা ফরেনসিক বিজ্ঞানাগার ও আঞ্চলিক ফরেনসিক বিজ্ঞানাগারের বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা ও আলামত সংগ্রহ করেছেন।
বর্তমানে পাঁচ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৫(১) ও ১০৩(১) ধারা এবং পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তবে তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনে আরও ধারা সংযোজন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। যদিও ময়নাতদন্তে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে, এখনও গণধর্ষণের ধারা যুক্ত করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, প্রত্যেক অভিযুক্তের নির্দিষ্ট ভূমিকা, ঘটনাক্রম এবং ফরেনসিক তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণের পরই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে অলইছড়ায় নিজের বাড়ি থেকে দশম শ্রেণির এক নাবালিকা ছাত্রীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাইলাকান্দি-সহ বরাক উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও দেখান। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং সংগৃহীত বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।



