দিলোয়ার বড়ভূইয়া, কাবুগঞ্জ।
বরাক তরঙ্গ, ২২ জুলাই : কাছাড় জেলার ভুবন পাহাড়ের পাদদেশে আমড়াঘাটের রামমানিকপুর গ্রামে এক গৃহস্থের বাড়ির আঙিনায় প্রায় ১২ ফুট লম্বা একটি কিং কোবরা দেখা যাওয়ায় বুধবার সকাল থেকে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘরের একেবারে কাছাকাছি বিষধর সাপটির উপস্থিতিতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের বাসিন্দা দেবু শুক্লবৈদ্য সকালে বাড়ির ফুলবাগান সংলগ্ন আঙিনায় কাজ করার সময় হঠাৎ বিশাল আকৃতির সাপটি দেখতে পান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সাপটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১০ থেকে ১২ ফুট। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে সেটি ফনা তুলে প্রতিরক্ষামূলক ভঙ্গি নেয়। আতঙ্কিত হয়ে দেবু শুক্লবৈদ্য চিৎকার করলে আশপাশের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। তবে ভিড় বাড়তে দেখে সাপটি ধীরে ধীরে পাশের জঙ্গলের দিকে চলে যায় এবং চোখের আড়ালে মিলিয়ে যায়।
ঘটনার খবর দ্রুত গোটা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
গ্রামবাসীরা জানান, ভুবন পাহাড় সংলগ্ন হওয়ায় এলাকায় মাঝে মাঝে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর দেখা মিললেও এত বড় কিং কোবরা লোকালয়ের এত কাছে চলে আসার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ঘটনার পরই মুনিয়ারখাল বন বিভাগের বিট কার্যালয়ে খবর দেওয়া হয়। বন বিভাগের পক্ষ থেকে গ্রামবাসীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, সাপটি পুনরায় দেখা দিলে কেউ যেন সেটিকে ধরার, তাড়ানোর বা আঘাত করার চেষ্টা না করেন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত বন বিভাগ বা প্রশিক্ষিত সাপ উদ্ধারকারী দলকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত বর্ষাতেও একই এলাকার একটি নালায় বড় আকৃতির একটি কিং কোবরা দেখা গিয়েছিল। তাঁদের ধারণা, ভুবন পাহাড়ের বনাঞ্চলে আবাসস্থলের পরিবর্তন কিংবা খাদ্যের সংকটের কারণে বন্যপ্রাণীরা লোকালয়ের দিকে চলে আসছে।
প্রকৃতিবিদদের মতে, কিং কোবরা বিশ্বের দীর্ঘতম বিষধর সাপগুলোর অন্যতম। সাধারণত এরা মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চললেও হুমকির মুখে পড়লে আত্মরক্ষার্থে ফনা তুলে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তাই এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকা এবং বন বিভাগের নির্দেশনা মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
ঘটনার পর রামমানিকপুরে গ্রামবাসীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বাড়ির আঙিনা, ঝোপঝাড় ও ফুলবাগানে চলাফেরার সময় অতিরিক্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



