১৮ জুলাই : দিল্লির যন্তরমন্তরের আন্দোলন দমাতে গিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলল প্রশাসন। নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে অনশনরত পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুককে শনিবার ভোরে হাসপাতালে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। কিন্তু এই পদক্ষেপের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলনের রাশ ধরে নতুন করে অনশনের ঘোষণা করলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র (CJP) প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রধান অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke Hunger Strike)। সোনম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও, আন্দোলন যে থামছে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
এদিন সকালে যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তরের পর সেখানে উত্তেজনা চরম আকার নেয়। অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ তাঁকে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থলে ঢুকতে বাধা দেয় এবং বিনা প্ররোচনায় মারধর করে আটক করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনশনে বসার কথা জানিয়েছেন অভিজিৎ।
এদিকে, সোনমকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরেই যন্তর মন্তর চত্বর কার্যত দুর্গে পরিণত করেছে দিল্লি পুলিশ। চারপাশ ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল পুলিশ বাহিনী। আন্দোলনকারীদের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভস্থল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আগামী ২০ জুলাই, সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথমদিনেই আন্দোলনকারীদের পূর্বপরিকল্পিত ‘সংসদ অভিযান’ কর্মসূচি রয়েছে। তার ঠিক দু-দিন আগে পুলিশি তৎপরতা ও অভিজিতের অনশনের ঘোষণায় রণকৌশল বদলাতে বাধ্য হচ্ছে আন্দোলনকারীরা।
অন্যদিকে, হাসপাতালে সোনম ওয়াংচুককে ঘিরেও টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো হাসপাতালে পৌঁছেই কর্তৃপক্ষকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের পরিবার এবং গত ২০ দিন ধরে সোনমের চিকিৎসা করা চিকিৎসকদের লিখিত অনুমতি ছাড়া তাঁর স্বামীকে যেন কোনো ওষুধ বা ইঞ্জেকশন না দেওয়া হয়। যদিও দিল্লি পুলিশের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, সোনমকে সরানোর পর অভিজিৎ দীপকের এই নতুন অনশনের হুঁশিয়ারি দিল্লির মসনদে চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।



