১৪ জুলাই : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প মার্কিন নৌ অবরোধ পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী পণ্যবাহী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ টোল আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানান, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ‘হরমুজ প্রণালির রক্ষক’ হিসেবে পরিচিত হবে। তাঁর দাবি, বিশ্বের অন্যতম অস্থিতিশীল এই অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে বিপুল ব্যয় হবে, তা মেটাতে প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত সব পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ হারে অর্থ আদায় করা হবে।
এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন এবং এতদিন ধরে ওয়াশিংটনের ঘোষিত নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক রবার্ট কাগান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা এই সিদ্ধান্তে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাঁর মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়ে পরে সেই দেশগুলোর কাছ থেকেই অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে দুর্বল করবে।
ইরানে সর্বশেষ হামলার আগে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কঠোর হামলা চালাবে এবং তা প্রতিরোধের মতো সক্ষমতা তেহরানের নেই। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত পিক্যাক্স পর্বতেও হামলা চালানো হতে পারে।
পরবর্তীতে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার পর ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন কংগ্রেসকে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার বিষয়টি অবহিত করেন। একই সময়ে টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানে মার্কিন হামলার খবরও প্রকাশিত হয়।
যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর ট্রাম্প এর গুরুত্ব কমিয়ে দেখালেও সংঘাত নিরসনে নতুন কোনো কূটনৈতিক বা সামরিক কৌশলের ঘোষণা দেননি।



