বরাক তরঙ্গ, ১৪ জুলাই : কাছাড় জেলাজুড়ে জেলা টাস্ক ফোর্সের পরিচালিত যৌথ এনফোর্সমেন্ট অভিযানে ট্রাফিক ও পরিবহন আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত ৪ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত চলা এই অভিযানে মোট ১১ লক্ষ ১১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ সময় জেলার বিভিন্ন প্রবেশপথ ও প্রধান সড়কে প্রায় ২,৩৫০টি যানবাহন পরীক্ষা করা হয়।
জেলা কমিশনার নির্দেশে জেলা প্রশাসন, পরিবহন বিভাগ, পুলিশ, আবগারি বিভাগ এবং বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে লায়লাপুর, কালাইন, রংপুর, বড়খলা ও জিরিঘাট-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিবহন আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা এবং অবৈধ পরিবহন ও অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।
জানা গেছে, গত ২ জুলাই জেলা কমিশনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা বৈঠকে খাদ্য, গণবণ্টন, ভোক্তা বিষয়ক ও সমবায় এবং আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী কৌশিক রায় এবং কাছাড়ের অভিভাবক মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন। ওই বৈঠকেই জেলার প্রধান প্রবেশপথে নিয়মিত যৌথ এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ অনুসারেই ৪ জুলাই থেকে অভিযান শুরু হয়।

জেলা পরিবহন আধিকারিকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত মোট ৩৮২টি চালান ইস্যু করা হয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য, হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালানো, অতিরিক্ত আরোহী বহন, বিমা, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও বৈধ পারমিট ছাড়া যানবাহন পরিচালনা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থতা, পণ্যবাহী গাড়িতে অতিরিক্ত বোঝাই, দূষণ সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন, বাধ্যতামূলক রিফ্লেক্টর না থাকা এবং অনুমোদনহীন কাঠামোগত পরিবর্তনের মতো একাধিক অপরাধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পরিবহন বিভাগের দাবি, এই অভিযানের ফলে বিশেষ করে বাণিজ্যিক যানবাহনের চালক ও মালিকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র বহনের সচেতনতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দিনগুলিতেও কাছাড় জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের যৌথ এনফোর্সমেন্ট অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সমস্ত যানবাহনের চালক ও মালিকদের মোটরযান আইন মেনে চলা, বৈধ নথিপত্র সঙ্গে রাখা এবং অতিরিক্ত বোঝাই এড়িয়ে নিরাপদ সড়ক পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক কার্যালয় শিলচর থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়েছে।



