জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ ছাত্রকে আটক করেছে পুলিশ
বরাক তরঙ্গ, ৬ জুন : গোয়ালপাড়া জেলার হাওয়াঘাট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে টিফিনের সময় গরুর মাংস আনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রের মা নুর সাহিদা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার তদন্তের স্বার্থে আরও পাঁচজন ছাত্রকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গরুর মাংস আনার অভিযোগকে ঘিরে এলাকাজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গোয়ালপাড়া জেলার কৃষ্ণাই অঞ্চলের একটি সরকারি বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নবম শ্রেণির পাঁচজন ছাত্র টিফিনে কথিত ‘নিষিদ্ধ মাংস’ নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে এবং শ্রেণিকক্ষেই তা ভক্ষণ করে। পাশাপাশি দুই হিন্দু ছাত্রকে ওই মাংস খাওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
জানা গেছে, বিশেষ সম্প্রদায়ভুক্ত ওই পাঁচ ছাত্র টিফিনের সময় নিজেদের আনা মাংস খাওয়ার পাশাপাশি দুই সহপাঠীকেও তা খাওয়ানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে দুই ছাত্র বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ আরও রয়েছে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা না করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং সংশ্লিষ্ট দুই ছাত্রকে এ বিষয়ে বাইরে কিছু না বলার পরামর্শ দেয়। তবে বিদ্যালয় ছুটির পর ওই দুই ছাত্র বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের পুরো ঘটনা জানায়। এরপর ভুক্তভোগী দুই ছাত্রের অভিভাবক কৃষ্ণাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এক অভিভাবক সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁর ছেলে বাড়ি থেকে টিফিন নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়েছিল। টিফিন খাওয়ার সময় কয়েকজন ছাত্র তাদের আনা মাংস খাওয়ার জন্য জোরাজুরি করে। এতে অস্বস্তি বোধ করে দুই ছাত্র সরাসরি বিদ্যালয়ের অফিসে গিয়ে অভিযোগ জানায়। তবে শিক্ষকেরা বিষয়টি পরিবারকে না জানানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।
অভিভাবকের মতে, এ ধরনের ঘটনার জন্য শুধু সংশ্লিষ্ট ছাত্ররাই নয়, তাদের পরিবারগুলোরও দায় রয়েছে। এদিকে, বিদ্যালয়ে টিফিন হিসেবে মাংস নিয়ে আসা এবং তা নিয়ে সহপাঠীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণাই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কৃষ্ণাই থানা। তবে অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।



