মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৬ জুন : করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস কমিটির উদ্যোগে শুক্রবার শ্রীভূমি শহরের একটি অভিজাত বিবাহ ভবনে নবনির্বাচিত দুই কংগ্রেস বিধায়ককে সংবর্ধনা জানিয়ে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক জাকারিয়া আহমদ এবং দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
জেলা কংগ্রেসের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, সমর্থক, বিশিষ্ট নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের সমাগম ঘটে। ফলে অনুষ্ঠানটি এক রাজনৈতিক সমাবেশের পাশাপাশি কংগ্রেস পরিবারের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনায় অতিথিদের উত্তরীয় ও ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তোলেন স্থানীয় শিল্পীরা। একইসঙ্গে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের কৃতী ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদেরও সম্মাননা জানানো হয়। তাদের হাতে স্মারক ও সম্মানপত্র তুলে দিয়ে ভবিষ্যতে আরও সাফল্যের জন্য উৎসাহিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন করিমগঞ্জ জেলা কংগ্রেস কমিটির সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ। তিনি দুই বিধায়কের সম্মানে মানপত্র পাঠ করেন এবং জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্মারক উপহার প্রদান করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এলাকার সার্বিক উন্নয়নই তাঁর প্রধান দায়িত্ব। তিনি জানান, কে ভোট দিয়েছেন আর কে দেননি, সেই বিভাজনে তিনি বিশ্বাসী নন; দক্ষিণ করিমগঞ্জের প্রতিটি মানুষের প্রতিনিধি হিসেবেই তিনি কাজ করতে চান। পাশাপাশি নিজের ভুলত্রুটি সংশোধনের জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতাও কামনা করেন।
অন্যদিকে, উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক জাকারিয়া আহমদ পান্না বলেন, উত্তর করিমগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয়লাভ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। তিনি এই জয়ের কৃতিত্ব কংগ্রেস কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাধারণ মানুষের সমর্থনকে দেন। বিরোধী দলে থেকেও উন্নয়নের কাজ করা সম্ভব বলে উল্লেখ করে তিনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে তাপস পুরকায়স্থ বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস বর্তমানে একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সকল স্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি নিয়মিত সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, দুর্বল সমষ্টিগুলিতে সংগঠনকে পুনর্গঠন এবং সক্রিয় কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই ওয়ার্ডভিত্তিক সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা নেতাদের পরিবর্তে নতুন ও কর্মঠ নেতৃত্বকে সুযোগ দেওয়ার ইঙ্গিতও দেন জেলা সভাপতি।
অনুষ্ঠানে জেলা কংগ্রেসের মিডিয়া বিভাগের চেয়ারম্যান শাহাদত আহমদ চৌধুরী, প্রশাসনিক সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুরি, কোষাধ্যক্ষ তন্ময় মজুমদার, একে তাপাদার, আইনজীবী জ্যোতির্ময় দাস, শুভঙ্কর দাস, অহি রঞ্জন দে, অনুরাগ দত্ত, শুভম দাস, গৌরাঙ্গ দে, টিনা সেন, জ্যোতিষ পুরকায়স্থ, সুব্রত দেবসহ অসংখ্য নেতা-কর্মী ও শুভানুধ্যায়ী উপস্থিত ছিলেন। উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ঐক্যের বার্তায় ভরপুর এই সংবর্ধনা সভায় আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।



