সোনাইয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত বসতঘর, সর্বস্বান্ত পরিবার

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১ জুন : কাছাড় জেলার সোনাই বিধানসভা এলাকার বেরাবাক দ্বিতীয় খণ্ডের ভকরারপার গ্রামে সোমবার দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। আগুনে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, আসবাবপত্রসহ গৃহস্থালির প্রায় সমস্ত সামগ্রী পুড়ে যাওয়ায় পরিবারটি চরম দুর্দশার মুখে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর প্রায় ২টার দিকে পিক্লুবাবু লস্করের বাড়িতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ঘটনার সময় পরিবারের কেউ ঘরে উপস্থিত ছিলেন না। পিক্লুবাবু লস্কর ব্যবসায়িক কাজে বাইরে ছিলেন এবং তাঁর স্ত্রী অর্চনা বেগম লস্কর, যিনি একজন আশা কর্মী, কর্মস্থলে ছিলেন। পরিবারের তিন সন্তান স্কুলে থাকলেও ছোট ছেলে স্কুল থেকে ফিরে প্রতিবেশী শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। হঠাৎ বাড়ির দিক থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা নিজেদের উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আগুন নেভানোর সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
পরে সোনাই অগ্নিনির্বাপক কেন্দ্রকে খবর দেওয়া হলে দমকল বাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে বসতঘরসহ ঘরের ভেতরে থাকা অধিকাংশ সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে ৪০ হাজার টাকারও বেশি নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, পোশাক, খাদ্যসামগ্রী, আসবাবপত্র এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। খবর পেয়ে বাড়িতে ফিরে পিক্লুবাবু লস্কর ও তাঁর স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের কথায়, বহু বছরের পরিশ্রম ও সঞ্চয়ে গড়ে তোলা সংসার মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে গেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে তারা খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রশাসনের কাছে জরুরি আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে।
এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *