২০ মে : দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে ইতালি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রোমের মাটিতে পা দিতেই তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর ‘বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
পাঁচ দেশের সফরে গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। আরব আমিরশাহী, নেদারল্যান্ড, সুইডেন এবং নরওয়ে সফরের পরে তিনি এসেছেন ইতালি। মঙ্গলবারই রোমের মাটিতে পা দিয়েছেন তিনি। উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় তাঁকে। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি (Antonio Tajani)। প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। হোটেলে তাঁর সম্মানে শাস্ত্রীয় ও সাংস্কৃতিক নৃত্যের আয়োজন করা হয়।
তাঁর এই সফরের লক্ষ্য কী তাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেল্লা (Sergio Mattarella) এবং প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি (Giorgia Meloni)-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আলোচনা করবেন তিনি। তাঁর এই সফরের মূল লক্ষ্য হবে ভারত-ইতালি সহযোগিতা কীভাবে আরও জোরদার করা যায় তা দেখা। ভারত-পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর (IMEC)-তৈরি করার বিষয়েও আলোচনা করবেন তিনি। সেই সঙ্গেই যৌথ কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা ২০২৫-২০২৯- (Joint Strategic Action Plan 2025-2029 )ও পর্যালোচনা করা হবে। এই সফরে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-র সদর দপ্তরও পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্ব খাদ্য সুরক্ষার প্রতি ভারতের অঙ্গীকারকে আরও শক্তিশালী করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার রোমের মাটিতে পা দেওয়ার পরেই প্রধানমন্ত্রী গিয়েছিলেন কলোসিয়ামে। ওই ঐতিহাসিক কলোসিয়ামে দাঁড়িয়েই তাঁর সঙ্গে ছবি তুলেছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবিও দিয়েছেন জর্জিয়া মেলোনি। ওই ছবির মাধ্যমে মোদীকে রোমে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ‘রোমে স্বাগতম আমার বন্ধু’। তাতে ইতালি এবং ভারতের জাতীয় পতাকার ছবিও দিয়েছেন জর্জিয়া। কুটনীতিবিদদের মধ্যে, এর মাধ্যমেই দুই দেশের বন্ধুত্বর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী।
দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রীও। সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, যে সমস্ত বিষয়ে আলোচনা হবে সেগুলির মধ্যে গুরুত্ব পাবে বাণিজ্য।গত বছর দুই দেশের মধ্যে ১৬.৭৭ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য হয়েছে। এ বার এই বাণিজ্য এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে চাইছে ভারত। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং জনগণের মধ্যে আদান-প্রদান বিষয়েও আলোচনা হবে।



