মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৪ মে : শ্রীভূমি জেলার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফলে প্রতিফলিত হলো পূর্বাভাসেরই বাস্তব চিত্র। বড় কোনো চমক নয়, বরং আগাম রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশেরই পুনরাবৃত্তি দেখা গেল এবারের রায়ে। দুই কেন্দ্রে বিজেপি এবং দুই কেন্দ্রে কংগ্রেস নিজেদের দখল অটুট রেখে জনমতের স্পষ্ট বার্তা তুলে ধরেছে।
ভোটের আগে যে রাজনৈতিক সমীকরণ আঁকা হয়েছিল, ফল ঘোষণার দিন তা হুবহু মিলে যায় বাস্তবের সঙ্গে। পাথারকান্দি ও রামকৃষ্ণনগরে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে বিজেপি, অন্যদিকে উত্তর ও দক্ষিণ করিমগঞ্জে নিজেদের ঘাঁটি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে কংগ্রেস। ফলে জেলার রাজনৈতিক ভারসাম্য প্রায় অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে।
সোমবার সকাল থেকে করিমগঞ্জ কলেজে গণনা শুরু হতেই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে ফলাফলের প্রবণতা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চারটি কেন্দ্রেই জয়-পরাজয়ের চিত্র পরিষ্কার হয়ে যায়। বিকেলের মধ্যেই পাথারকান্দি ও রামকৃষ্ণনগরের ফল ঘোষণা হয়, আর সন্ধ্যার আগেই প্রকাশিত হয় উত্তর ও দক্ষিণ করিমগঞ্জের চূড়ান্ত ফলাফল।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবারের নির্বাচন অনেকটাই একতরফা হয়েছে। কোথাও তেমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বা নাটকীয় মোড় দেখা যায়নি। প্রথম রাউন্ড থেকেই অধিকাংশ কেন্দ্রে এগিয়ে থাকা প্রার্থীরাই শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রাখেন। ফলে পুরো গণনাপর্ব শান্তিপূর্ণ ও পূর্বনির্ধারিত ছন্দেই সম্পন্ন হয়।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল আটটা থেকে শুরু হওয়া গণনায় শুরুতে কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা প্রশমিত হয়। দিনভর নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো। ফল ঘোষণার পর রাতেই বিজয়ী প্রার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়ি নির্দেশিকার ফলে জয় উদযাপনে মিছিল, আবির খেলা বা বাজি পোড়ানোর দৃশ্য তেমন চোখে পড়েনি। শাসক ও বিরোধী উভয় শিবিরেই সংযম লক্ষ্য করা গেছে, যা নির্বাচনী শৃঙ্খলার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উঠে এসেছে।
ফলাফলের হিসেবে পাথারকান্দিতে বিজেপির কৃষ্ণেন্দু পাল ৯৮,১০১ ভোট পেয়ে কংগ্রেসের কার্তিক সেনা সিনহাকে ৪৬,৭৬৪ ভোটে পরাজিত করেন। রামকৃষ্ণনগরে বিজেপির বিজয় মালাকার ১,৩৪,০১৩ ভোট পেয়ে কংগ্রেস প্রার্থী সুরুচি রায়কে ৮৩,৭৬৫ ভোটে হারিয়ে নিজের দাপট বজায় রাখেন।
অন্যদিকে উত্তর করিমগঞ্জে কংগ্রেসের জাকারিয়া আহমেদ পান্না ১,২১,০৫৬ ভোট পেয়ে বিজেপির সুব্রত ভট্টাচার্যকে ২৬,৫৯৬ ভোটে পরাজিত করেন। দক্ষিণ করিমগঞ্জে কংগ্রেসের আমিনুর রশিদ চৌধুরী বিপুল ১,৩৪,৭২৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। এখানে এজিপি প্রার্থী ইকবাল হুসেন পান ৪৯,৫৬৫ ভোট এবং তৃণমূল প্রার্থী পান ৩৯,৪১৪ ভোট। প্রায় ৮৫ হাজার ভোটের ব্যবধান এই আসনের ফলাফলকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।



