৩ মে : মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের আশঙ্কা ঘনীভূত। ইরানকে কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । তেহরানের পাঠানো নতুন ১৪ দফার শান্তি প্রস্তাব খতিয়ে দেখার কথা জানালেও, তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, গত ৪৭ বছরে বিশ্বের ক্ষতির জন্য ইরান এখনও ‘যোগ্য মূল্য’ চোকায়নি।
ফ্লোরিডায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন, ইরান যদি ফের ‘অসদাচরণ’ করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক হামলা চালানো হতে পারে। শনিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি লেখেন, ইরানের প্রস্তাব শীঘ্রই পর্যালোচনা করা হবে, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে বলে তিনি মনে করেন না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প জানান, আপাতত হামলার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী সব পথ খোলা রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারির শেষদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে শুরু হওয়া সংঘাত গত ৮ এপ্রিল থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এক দফা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান নতুন করে ১৪ দফার প্রস্তাব পাঠায়। ওই প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন কাঠামো গঠন এবং সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে। যদিও ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন, ইরানের শর্তে তিনি সন্তুষ্ট নন। তাঁর বক্তব্য, মানবিক কারণে চুক্তির পথে এগোতে চান, কিন্তু তেহরানের প্রস্তাব যথেষ্ট নয়।
এদিকে, ট্রাম্পের মন্তব্যের পর তেহরানেও উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের সিনিয়র সামরিক আধিকারিক মোহাম্মদ জাফর আসাদি বলেন, মার্কিন মন্তব্য মূলত বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং নিজেদের তৈরি সংকট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, মার্কিন ‘বোকামি’র জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
অন্যদিকে, ডেপুটি বিদেশমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘বল এখন আমেরিকার কোর্টে। তারা কূটনীতির পথ বেছে নেবে, নাকি সংঘাত—সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। ইরান দুই পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত।’



