ছাব্বিশের টিকিট নিয়ে আশাবাদী বিধায়ক নীহার
বরাক তরঙ্গ, ২৪ নভেম্বর : উপনির্বাচনে জয়লাভ করে এক বছর পূর্ণ করলেন ধলাইর বিধায়ক নীহার রঞ্জন দাস। ২০২৪ সালের রাজ্য বিধানসভা উপ-নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে ধলাই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্ধন্ধিতা করে গতবছর ২২ নভেম্বর বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। এ হিসেবে রবিবার ২২ নভেম্বর বিধায়ক হিসেবে তাঁর এক বছরের কার্য্যকাল পূর্ণ হয়েছে। তাই ধলাইর বিধায়ক হিসেবে তাঁর এক বছরের কাজের খতিয়ান জনসমক্ষে তোলে ধরেন তিনি।
সোমবার ধলাই বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপির বড়জালেঙ্গা, ধলাই-নরসিংহপুর ও পালংঘাট তিনটি মণ্ডলের পদাধিকারী ও দলীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ধলাইর পানিভরায় এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এক বছরের কাজের খতিয়ান জনসমক্ষে তোলে ধরেন বিধায়ক নীহার রঞ্জন দাস। সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন ভারতীয় জনতা পার্টি ও বিশেষ করে প্রাক্তন মন্ত্রী ও বর্তমান শিলচরের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্যের প্রস্তাবে তিনি টিকিট পান ও নির্বাচনে প্রতিদ্ধন্ধিতা করে দলীয় নেতা কর্মীদের পরিশ্রমের ফলে জয়লাভ করে বিধায়ক হন। আর বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে ধলাইর জনগণের আর্শিবাদ নিয়ে ও পরিমল শুক্লবৈদ্যের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কাজ করে যান। তিনি বলেন, পরিমল শুক্লবৈদ্যের নেতৃত্বে ধলাইতে প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে। রাস্তাঘাট থেকে স্কুল কলেজ সব ক্ষেত্রে কাজ করেছেন তিনি । তার কথায় পরিমল শুক্লবৈদ্য কেবিনেট মন্ত্রী থাকা অবস্থায় কাছাড় জেলার ছয়টি বিধানসভা সমষ্ঠিকে সমজেলায় উন্নতি করার জন্য কেবিনেটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেবার শুধু লক্ষীপুর সমষ্ঠিকে সমজেলায় উন্নতি করা হয়। পরে তিনি বিধায়ক হয়ে প্রচেষ্টা চালান ও ধলাই সমষ্ঠিকে আসাম সরকার সমজেলায় উন্নতি করে।
তিনি আরও বলেন, ধলাইতে পূর্ত সড়ক নির্মাণের জন্য ৫০ কোটি টাকা মঞ্জুর হয়েছে। যার কাজ আগামী ডিসেম্বর মাসে শুরু হবে। আসাম মালা প্রকল্প থেকে ৩৭ কোটি টাকা মঞ্জুর হয়েছে। এই টাকায় ধোয়ারবন্ধ থেকে বিলাইপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রাস্তার নির্মাণ কাজ হবে। বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের ১ কোটি টাকার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে ও আরও ১ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আনটাইড ফাণ্ড থেকে ১ কোটি টাকার প্রকল্প মঞ্জুর হয়েছে ও ইতিমধ্যে কাজও শুরু হয়েছে। এছাড়া আসাম দর্শন প্রকল্পের অধীনে ১৭8 টি মন্দির ও উপাসনালয়ে জন্য ৩ লক্ষ টাকা করে মঞ্জুর হয়েছে , যার কাজ চলছে এবং আরও ১৫৬ টির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এক দু মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে। চা-বাগান এলাকায় স্কুল নির্মাণের জন্য ৩৫ লক্ষ টাকা করে তিনটি স্কুল নির্মাণের কাজ চলছে। ধলাই বিধানসভা কেন্দ্রের ২৬ টি চা বাগানে ধুপঘর নির্মাণের জন্য সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা করে মঞ্জুর হয়েছে। চা বাগান এলাকায় ১১টি রাস্তা তৈরির জন্য ১ কোটি টাকা করে মঞ্জুর হয়েছে, যার প্রস্তাব তদানীন্তন মন্ত্রী তথা বর্তমান সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য দিয়েছিলেন। বিধায়ক নীহার রঞ্জন দাস আরও বলেন গঙ্গানগর নিকামা হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ভবন নির্মাণের জন্য ৪.১২ কোটি টাকা মঞ্জুর হয়েছে। বিদ্যারতনপুরের দীনেশ দেব হাইস্কুলের ভবন নির্মাণের জন্য ৭ কোটি টাকা মঞ্জুর হয়েছে। এছাড়া তাঁর প্রস্তাবিত বাম বিদ্যাপিট স্কুলের জন্য ৩ কোটি টাকা মঞ্জুর হয়েছে। চা-বাগান এলাকায় ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৫টি নাচঘর নির্মাণের অর্থ মঞ্জুর হয়েছে। তিনটি মণিপুরী মন্দির নির্মাণের জন্য ৩০ লক্ষ টাকা করে মঞ্জুর হয়েছে। ডিএমএফটি ফাণ্ড থেকে ৫৫ লক্ষ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও ধলাইতে ৪২টি মডেল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নির্মাণ হয়েছে ও তাঁর প্রস্তাবিত আরও ১৮ টি মডেল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জন্য অর্থ মঞ্জুর হয়েছে। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে ইতিমধ্যে ১,৬০ কোটি টাকার অধিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে ও আরও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বিধায়ক বলেন তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ধলাই বিধানসভা কেন্দ্র ধলাই, পালংঘাট ও বড়জালেঙ্গায় চাকরি প্রত্যাশী যুবক যুবতীদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ প্রদানে উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার অধীনে ১৬০ কিলোমিটার রাস্তা তৈরির প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। এভাবে তাঁর বিধায়ক হিসেবে এক বছরের কার্যকালে এসব কাজ হয়েছে বলে তিনি জানান। এছাড়াও অরুনোদয় প্রকল্পের অধীনে ধলাইয়ে ৩২ হাজার মহিলা উপকৃত হয়েছেন। এদিন চাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ধলাই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনি কি পুনরায় মনোনয়ন পাবেন ? এমন প্রশ্নেে জবাবে বিধায়ক নীহাররঞ্জন দাস বলেন দলের নির্দেশ মতে কাজ করে যাচ্ছেন, তাই টিকিট নিয়ে তিনি আশাবাদী।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিধায়কের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির পালংঘাট, ধলাই-নরসিংহপুর ও বড়জালেঙ্গা মণ্ডল সভাপতি যথাক্রমে অপূর্ব দাশ, সঞ্জয় কৈরি ও অজয় দেব, জেলা পরিষদ সদস্য ধর্মেন্দ্র তেওয়ারি, পম্পী নাথ চৌধুরী, তিন আঞ্চলিক পঞ্চায়েত সভাপতি নির্মলকান্তি দাশ, বুল্টি দেব, মীনা রায়, ধলাই-নরসিংহপুর ব্লক আঞ্চলিক পঞ্চায়েত সহ-সভানেত্রী সায়ন্তিকা গোস্বামী সহ প্রীতিশ চন্দ্র দাস, দীপক রায়, অজয়কৃষ্ণ দেব, সুদীপ কুমার, সুপায়ন চৌধুরী প্রমুখ।



