৫ এপ্রিল : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়ে পালটা কড়া জবাব দিল ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই আল্টিমেটামকে ‘অসহায়, ভীতসন্ত্রস্ত, অস্থিরচিত্ত এবং মূর্খতাসূচক পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুরেই পালটা হুংকার দিয়ে ইরান জানিয়েছে, আমেরিকার জন্য ‘নরকের দ্বার’ খুলে যেতে চলেছে।অনলাইন সংবাদপত্র
সম্প্রতি ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে হুমকি দিয়েছিলেন যে, যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান শান্তি চুক্তিতে (Peace Deal) রাজি না হয় এবং হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) সম্পূর্ণভাবে খুলে না দেওয়া হয়, তবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ ইরানকে ১০ দিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন ট্রাম্প, যা আগামী ৬ এপ্রিল (সোমবার) শেষ হওয়ার কথা। সেই ডেডলাইন শেষ হওয়ার আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি।
ইরানের ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের জেনারেল আলি আবদুল্লাহি আলিয়াবাদি সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকা বা ইজরায়েল যদি ইরানের জাতীয় সম্পদে আঘাত হানে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইজরায়েলি পরিকাঠামোয় ‘বিধ্বংসী ও নিরবচ্ছিন্ন’ হামলা চালানো হবে। তিনি বলেন, ‘পরপর বেশ কয়েকটি পরাজয় স্বীকার করার পর, এই আগ্রাসী ও যুদ্ধবাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক মরিয়া, ভীতসন্ত্রস্ত, অস্থিরচিত্ত এবং বোকামিপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের অবকাঠামো ও জাতীয় সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর হুমকি দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের অধিকার রক্ষা এবং জাতীয় সম্পদের সুরক্ষার প্রশ্নে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আগ্রাসনকারীদের উচিত শিক্ষা দিতে এক মুহূর্তের জন্যও দ্বিধাবোধ করবে না।’
ইরানের এক নিরাপত্তা আধিকারিকও ট্রাম্পের সেতু উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, মার্কিন সামরিক অভিযানের ব্যর্থতা ঢাকতেই এই ধরনের আস্ফালন করছেন ট্রাম্প।



