২৯ মার্চ : বিষাদের ছায়া বিনোদন জগতে। ওড়িশার তালসারিতে শুটিং শেষ হওয়ার আনন্দ মুহূর্তেই বদলে গেল হাহাকারে। সমুদ্রের ঢেউয়ে তলিয়ে গিয়ে অকাল মৃত্যু হলো জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুনোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সহকর্মীদের চোখের সামনেই মৃত্যুর কাছে হার মানলেন এই শিল্পী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ইউনিট সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বিকেল পর্যন্ত তালসারিতে একটি ধারাবাহিকের শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন রাহুল। প্যাকআপ হওয়ার পর সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রের সঙ্গে সৈকতে যান তিনি। চালকের বারণ সত্ত্বেও রাহুল একা জলে নামলে ঘটে বিপত্তি। প্রত্যক্ষদর্শী অভিনেতা দিগন্ত বাগচীর মতে, সম্ভবত বালিতে পা আটকে যাওয়ায় ঢেউয়ের ধাক্কা সামলাতে পারেননি তিনি। শ্বেতার চিৎকার শুনে দ্রুত উদ্ধার করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
শুটিং ইউনিটের তরফে জানানো হয়েছে, অচৈতন্য রাহুলকে নিয়ে দিঘা মহকুমা হাসপাতালে যাওয়ার পথে ট্রাফিক জ্যাম বাধা হয়ে দাঁড়ায়। গাড়ির ভেতরেই টেকনিশিয়ানরা কৃত্রিম শ্বাসপ্রদানের চেষ্টা চালালেও সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক অনুমান, জলে ডোবার ধকল সইতে না পেরে পথেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি।
১৯৮৩ সালের ১৬ অক্টোবর জন্ম নেওয়া রাহুলের অভিনয় যাত্রা শুরু হয়েছিল বাবা বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে, ‘রাজ দর্শন’ নাটকের মাধ্যমে। থিয়েটারের মঞ্চে ৪৫০-এর বেশি নাটকে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি পা রেখেছিলেন পর্দায়। ২০০৮ সালে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি রাতারাতি তারকা হয়ে ওঠেন। তাঁর বিপরীতে ছিলেন বাস্তব জীবনের জীবনসঙ্গিনী প্রিয়াঙ্কা সরকার। দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি ‘সহজ কথা’ পডকাস্ট এবং ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে তিনি ফের দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন।



