বরাক তরঙ্গ, ২১ নভেম্বর : শুক্রবার থেকে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হলো দু’দিনের ‘নর্থইস্ট ইন্টারন্যাশনাল সাসটেইনেবল সামিট–২০২৫’। উত্তরপূর্ব ভারতের টেকসই উন্নয়নকে সামনে রেখে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, বিদ্বজ্জন ও গবেষকরা অংশগ্রহণ করেছেন। এদিন সকালে বিপিনচন্দ্র পাল মিলনায়তনে প্রদীপ জ্বালিয়ে সম্মেলনের সূচনা করেন উপাচার্য অধ্যাপক রাজীবমোহন পন্থ সহ অন্য অতিথিরা। উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন ড. অরূপ কুমার মিশ্র, সুরেন্দ্র সিংহ ঘোংক্রোক্তা, প্রদীপ যোশি সহ এনইসির কর্মকর্তা ও প্রবীণ শিক্ষাবিদরা।
স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন অধ্যাপিকা এম তিনেশ্বরী দেবী। তিনি বলেন, উত্তরপূর্বে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা ও গবেষণাকে এগিয়ে নেওয়াই এই সসম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য। ড. অরূপ কুমার মিশ্র পরিবেশ সংরক্ষণে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ করার আহ্বান জানান। সুরেন্দ্র সিংহ ভারতের টেকসই উন্নয়ন যাত্রায় উত্তরপূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেন। প্রদীপ যোশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর বহুমুখী অবদানকে বিশেষভাবে প্রশংসা করেন। উপাচার্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থ বলেন, দেশের উন্নত ভবিষ্যৎ নির্মাণে উত্তরপূর্ব ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। শেষে ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন কনভেনার ড. লালজো এস. থাংজম। সেইসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই সম্মেলনের আলোচনাগুলো উত্তরপূর্ব থেকে টেকসই উন্নয়নকে পরিবার-সমাজ এবং জাতীয় পর্যায়ে একটি ধারাবাহিক আলোচনার পথে নিয়ে যাবে।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে বিপিনচন্দ্র পাল মিলনায়তন ও প্রেমেন্দ্র মোহন গোস্বামী সভাকক্ষে সমান্তরাল ভাবে বিদ্যায়তনিক অধিবেশন আয়োজিত হয়। এসব অধিবেশনে পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই উদ্ভাবন, নারী ও যুব সমাজের ক্ষমতায়ন, সামাজিক বৈষম্য ও উন্নয়নের সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে আলোচনা ও গবেষণা উপস্থাপন করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, স্থানীয় জ্ঞানব্যবস্থা, সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মতো বিষয়ও গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। সম্মেলন চলবে শনিবারও।



