বরাক তরঙ্গ, ৭ জানুয়ারি : মায়ান্মারে ভারতীয় অটোর খুবই চাহিদা। পাচারকারী চক্র এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছে পাচার বাণিজ্য। এই পাচার চক্রের জড় নিহিত রয়েছে মূলত এ জেলার সোনাইয়ে। সোনাইর পাচারকারীদের সহযোগীরা রয়েছে মিজোরাম এবং মায়ান্মারেও। এই চক্রে কিছু গাড়ি চোর থেকে ধরে দালাল, গ্যারেজ মালিক এবং বিভিন্ন এজেন্সির ভেতরের কয়েকজন লোকও জড়িত রয়েছে।
তারা পুরনো অটোকে নতুনভাবে সাজিয়ে নথিপত্র তৈরি করে মিজোরাম হয়ে পাচার করে অটো। পুলিশ এই চক্রের সন্ধান পাওয়ার পর বাজেয়াপ্ত করেছে পাঁচটি অটো। সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে সোনাবাড়িঘাট বাইপাস এলাকার এক গ্যারেজ মালিক সহ দু’জনকে। ধৃতরা হল গ্যারেজ মালিক আফজল হোসেন লস্কর (৪০) কচুদরম তৃতীয় খণ্ডের বাসিন্দা। ধৃত অন্যজন সামসউদ্দিন বড়ভূইয়া (২১) সোনাই তুন্দুরকান্দির বাসিন্দা।
জানা গেছে, আফজল হোসেনের গ্যারেজে পাঁচটি পুরনো অটোর বডি সম্পূর্ণরূপে বদলে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল। নতুন হিসেবে মিজোরাম হয়ে মায়ান্মারে পাচারের জন্য সাজানো হয়েছিল অটোগুলো। গোপন সূত্রে এই খবর পেয়ে পুলিশ গ্যারেজে অভিযান চালালে মালিক আফজল হোসেন অটোগুলোর কোনও নথিপত্র দেখাতে পারেনি। তাই অটোগুলো বাজেয়াপ্ত করার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় আফজলকে। এরপর তার সূত্রে গ্রেফতার করা হয় সহযোগী সামস উদ্দিনকে।

পাচার বাণিজ্যের পালা শুরু হয় অটো চুরি বা কম মূল্যে কিনে আনার মাধ্যমে। প্রথম দফায় হয় চোররা চুরি করে নিয়ে আসে গাড়ি। কখনও কখনও আবার দালালরা পুরনো অটোর মালিকদের কাছ থেকে কিনে আনে খুবই কম দামে। এরপর নির্দিষ্ট কিছু গ্যারেজে সেসবের বডি বদলে সাজিয়ে তোলা হয় নতুনভাবে। এবার বিভিন্ন এজেন্সির ভেতরে থাকা সহযোগীদের মারফত গাড়িগুলোকে নতুন হিসেবে দেখিয়ে তৈরি করা হয় নথিপত্র। এসব পালা শেষ হওয়ার পর একটি-দু’টি করে গাড়ি প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় মিজোরামে। এরপর মিজোরামের সহযোগীরা সেসব সুযোগ বুঝে পাচার করে দেয় মায়ান্মারে। এমনিতে কিছুটা পুরনো অটো হলেও চাহিদা রয়েছে মায়ান্মারে। তবে বেশি মূল্য পাওয়ার জন্য সেসব নতুনভাবে সাজিয়ে নতুন বলে বিক্রি করা হয় মায়ান্মারের ক্রেতাদের কাছে। এবার সোনাবাড়িঘাট বাইপাস এলাকার গ্যারেজ থেকে যে পাঁচটি অটো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, গ্যারেজ মালিক নথিপত্র দেখাতে না পারায় অনুমান করা হচ্ছে সেসব আনা হয়েছে চুরি করে। এ পর্যন্ত শুধুমাত্র আফজল হোসেন এবং সামস উদ্দিন ধরা পড়লেও পুলিশ আশা করছে বড়মাপের এই পাচারচক্রের অন্যান্যরাও ধরা পড়বে শীঘ্রই।



