লক্ষীপুরে আনারস চাষে সোনালি সম্ভাবনা, নীতি আয়োগের অনুদানে অনুমোদন ১.৬৪ কোটি টাকা

জনসংযোগ, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২ জানুয়ারি : লক্ষীপুর ব্লকে আনারস চাষ ও প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে শুরু হতে চলেছে এক নতুন ও সম্ভাবনাময় অধ্যায়। কৃষিভিত্তিক উদ্ভাবন, দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের লক্ষ্যে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশন ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া (নীতি আয়োগ) লক্ষীপুর ব্লকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি প্রদান করেছে। আকাঙ্ক্ষিত জেলা কর্মসূচি ও আকাঙ্ক্ষিত ব্লক কর্মসূচির আওতায় “লক্ষীপুর জিরো-ওয়েস্ট আনারস উদ্ভাবন” প্রকল্পের জন্য ১ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকার অনুদান অনুমোদন করা হয়েছে। এই অনুমোদন প্রদান করা হয় আকাঙ্ক্ষিত জেলা ও ব্লক কর্মসূচি সংক্রান্ত সচিবদের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির ৪৭তম বৈঠকে, যা ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর নীতি আয়োগের প্রধান নির্বাহী আধিকারিকের সভাপতিত্বে নয়াদিল্লি থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি ভারত সরকারের আন্ডার সেক্রেটারি (আকাঙ্ক্ষিত জেলা ও ব্লক কর্মসূচি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, অসমের কাছাড় জেলার লক্ষীপুর ব্লকে এক বছর তিন মাস মেয়াদি একটি আধুনিক জিরো-ওয়েস্ট আনারস উদ্ভাবন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা। এই উদ্যোগের লক্ষ্য আনারস ও এর উপজাত পণ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে বর্জ্য হ্রাস, মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব বজায় রাখা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে লক্ষীপুর ব্লকে আনারসের মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আনারস প্রক্রিয়াকরণ, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষক, মহিলা স্বনির্ভর দল এবং গ্রামীণ যুবকদের জন্য নতুন জীবিকা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। জিরো-ওয়েস্ট পদ্ধতির মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এই উদ্যোগ। এই অনুমোদনকে স্বাগত জানিয়ে কাছাড় জেলার জেলা আয়ুক্ত মৃদুল যাদব বলেন, লক্ষীপুর ব্লকে আনারস প্রক্রিয়াকরণ ও জিরো-ওয়েস্ট উদ্ভাবনের জন্য ১.৬৪ কোটি টাকার এই অনুদান জেলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। তিনি বলেন, “এই প্রকল্প স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আনারসের মূল্য সংযোজন বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং কৃষক ও উদ্যোক্তাদের আরও ক্ষমতায়িত করবে।”

তিনি আরও জানান, নীতি আয়োগের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পটির কার্যকর ও সময়োপযোগী বাস্তবায়নে কাছাড় জেলা প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই অনুমোদনের ফলে লক্ষিপুর ব্লক দেশের আকাঙ্ক্ষিত ব্লকগুলির তালিকায় নিজের স্থান সুদৃঢ় করল, যেখানে লক্ষ্যভিত্তিক কেন্দ্রীয় সহায়তার মাধ্যমে স্থানীয় সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, দীর্ঘমেয়াদি এবং ফলাফলনির্ভর উন্নয়নের জাতীয় লক্ষ্য আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *