গ্রেটার নয়ডায় একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু ঘিরে রহস্য ঘনীভূত, সামনে এল চাঞ্চল্যকর অডিও

Spread the news

সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের অভিযোগ, মহেশের দুই বোন ও এক ননদের বিরুদ্ধে এফআইআর, হেফাজতে তিন অভিযুক্ত

১৮ অক্টোবর: উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ক্রমশ জটিল হচ্ছে তদন্ত। প্রথমে রাতে ম্যাগি ও চা খাওয়ার পর পাঁচজনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছিল। পরে পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে ওঠে নানা প্রশ্ন। এবার মৃত মহেশের মোবাইল ফোন থেকে উদ্ধার হওয়া একটি কথিত অডিও রেকর্ডিং তদন্তে নতুন মোড় এনে দিয়েছে।

টিভি ৯-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই অডিওতে মহেশ তাঁর পরিবারের এই পরিস্থিতির জন্য কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ও পরিচিত ব্যক্তিকে দায়ী করেছেন বলে জানা গিয়েছে। রেকর্ডিংটি সামনে আসার পর ঘটনাটি খুন নাকি অন্য কোনও কারণে ঘটেছে, তা নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে গণআত্মহত্যার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ ইতিমধ্যেই মহেশের মোবাইল ফোনটি নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। অডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি সেটি ঠিক কখন রেকর্ড করা হয়েছিল, তা জানতে টাইমস্ট্যাম্প পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে রেকর্ডিংটির যোগসূত্র নির্ধারণ করাই তদন্তকারীদের অন্যতম লক্ষ্য।

এদিকে, মৃতা ললিতার ভাই আকাশের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে রাবুপুরা থানার পুলিশ মহেশের দুই বোন সুনীতা ও স্বপ্না এবং তাঁর এক ননদের বিরুদ্ধে নাম উল্লেখ করে এফআইআর দায়ের করেছে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা মহেশ ও ললিতাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করছিলেন। পাশাপাশি পরিবারের সম্পত্তি বেআইনিভাবে দখলের চেষ্টাও চলছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তিন অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জমি অধিগ্রহণের বিনিময়ে পরিবারটি বিপুল পরিমাণ ক্ষতিপূরণের অর্থ পেয়েছিল। সেই টাকা ভাগাভাগি নিয়েই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল বলে জানা গিয়েছে। বর্তমান ঘটনার সঙ্গে ওই সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

এই ঘটনার সঙ্গে জুড়ে রয়েছে আরও একটি পুরনো পারিবারিক ট্র্যাজেডি। তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে মহেশের বড় ভাই রাহুলেরও মৃত্যু হয়েছিল আত্মহত্যার ঘটনায়।

পারিবারিক অশান্তির সঙ্গে ওই ঘটনার কোনও সম্পর্ক ছিল কি না এবং বর্তমান মামলার সঙ্গে তার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *