মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত ও মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুকে অপমান, ‘বাঙালি ভাই পেজের বিরুদ্ধে মামলা যুবমোর্চার

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২৮ নভেম্বর : সোশ্যাল মিডিয়ায় লাগামহীন মন্তব্য, কুরুচিপূর্ণ কটাক্ষ ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং পাথারকান্দির বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালকে নিয়ে ধারাবাহিকভাবে অপমানজনক মন্তব্য করার অভিযোগে এবার সরব হল পাথারকান্দি মণ্ডল যুবমোর্চা। ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুতর আখ্যা দিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘বাঙালি ভাই’ নামের একটি ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে থানায়।

এ দিন পাথারকান্দি বিজেপির যুবমোর্চার মণ্ডল সভাপতি শংকর দেবনাথের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পাথারকান্দি থানায় উপস্থিত হয়ে সমজেলা পুলিশ অধিক্ষক অর্নিবান শর্মার হাতে একটি বিস্তারিত এজাহার তুলে দেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন মণ্ডলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন কর্মী ও স্থানীয় যুবনেতারা, যারা বিষয়টিকে শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং সামাজিক শান্তি ও নৈতিকতার ওপর আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয় সাম্প্রতিক সময়ে ‘বাঙালি বাবু’ নামের ফেসবুক পেজটি নিয়মিতভাবে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালকে নিয়ে অবমাননাকর, কুরুচিপূর্ণ এবং অসত্য তথ্যভিত্তিক পোস্ট করছে। শুধু তাই নয়, গতকাল সেই পেইজে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার একটি ভিডিও এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত করা হয় এবং ওই বিভ্রান্তিকর ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

যুবমোর্চার দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা এই ধরনের পোস্ট সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনিক ভাবমূর্তিকে নষ্ট করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।যুবমোর্চার সভাপতি শংকর দেবনাথ জানান,এই ধরনের আচরণ শুধুমাত্র নৈতিকতার পরিপন্থীই নয়, বরং আইনভঙ্গকারীও। মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এমন কুরুচিপূর্ণ পোস্ট করে একজন নির্বাচিত প্রতিনিধিকে ছোট করার চেষ্টা করা মানেই প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। আমরা এর ন্যায়সঙ্গত বিচার চাই।তারা পুলিশ প্রশাসনের কাছে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

এদিকে, স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও এ ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ছড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার এখন ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, যেখানে যে কেউ ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তিমূলক ও ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়াতে পারে। এ ঘটনায় সমাজের সচেতন মহলও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এবং সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে আরও কঠোর নজরদারির দাবি তুলেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পাথারকান্দি থানা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পেজটির অ্যাডমিন ও সংশ্লিষ্টদের পরিচয় সনাক্ত করতে ইতোমধ্যে প্রযুক্তিগত পর্যায়ে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের মানহানির বিরুদ্ধে এই প্রত্যাঘাত ভবিষ্যতে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচারে লাগাম টানবে বলে অনেকেই আশাবাদী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *