বাংলাদেশ ও ভারতে খণ্ড খণ্ড সহিংস ঘটনার পেছনে কী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ?

।। প্রদীপ দত্তরায় ।।
(লেখক প্রাক্তন ছাত্রনেতা ও গৌহাটি হাইকোর্টের আইনজীবী)
৮ জানুয়ারি : বর্তমান সময়ে  বাংলাদেশ ও ভারতে কিছু খণ্ড খণ্ড নির্যাতনের ঘটনা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। হিংসাত্মক এইসব ঘটনা মানবতাকে ভূলুণ্ঠিত করছে। বিশ্বের শান্তিকামি এবং প্রগতিশীল মানুষ এইসব ঘটনাকে নিন্দা জানালেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এগুলি দমন করার ক্ষেত্রে ভূমিকাটা খুব ইতিবাচক নয়। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ এসব ঘটনার তদন্ত এবং মামলা গ্রহণে গড়িমসি করে থাকে এমনটাও দেখা যাচ্ছে। ধর্মের নামে, বর্ণের নামে , অঞ্চলের নামে এই যে বিদ্বেষ জাগিয়ে তোলা হচ্ছে এর সুদূরপ্রসারী ফলাফল কেমন হতে পারে এ নিয়ে সচেতন মানুষ দুশ্চিন্তাগ্রস্থ। বাংলাদেশে এখন কোনো গণতান্ত্রিক সরকার নেই। একটি উগ্র জাতীয়তাবাদীদের সমর্থনপুষ্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার সে দেশে সমস্ত জনগোষ্ঠীর জান- মাল রক্ষায় সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। ধর্ম অবমাননার মিথ্যে অভিযোগ তুলে দিপু দাসকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। ময়মনসিংহের আরেক যুবককেও গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আরেকজনকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। চট্টগ্রাম এবং পিরোজপুরে ঘরের ভেতর মানুষকে তালাবদ্ধ করে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে অগ্নিকাণ্ডে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে আরো কয়েকজন আহত।শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কেহরভাঙ্গা বাজারে এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাজারের ফার্মেসি ও বিকাশ–নগদ ব্যবসায়ী খোকন দাস রাত আনুমানিক ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে তিনজনের একটি সন্ত্রাসী দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। যারা এসব ঘটনা করছে তাদের পেছনে সংকীর্ণ রাজনীতি কাজ করছে। হামলার তিনদিন পর হাসপাতালে খোকনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও বাংলাদেশের পুলিশ এ ঘটনাগুলি নিয়ে মামলা করেছে কিন্তু বৃহত্তর পরিসরে নিরাপত্তাহীনতার যে দৃশ্য ফুটে উঠেছে তা খুবই হৃদয়বিদারক। বাংলাদেশে যদি সংখ্যালঘু মানুষ নিরাপদে থাকতে না পারে তাহলে এর প্রতিক্রিয়া কিছুটা হলেও ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে পড়তে বাধ্য। অরুণাচল প্রদেশে তাই বাংলাদেশি বিতরণের হুংকার দিয়ে সে রাজ্যের বাসিন্দারা সরাসরি পদক্ষেপ করতে শুরু করেছেন। অন্যান্য রাজ্য অসহিষ্ণুতার কিছু কিছু ঘটনা ঘটে চলেছে। কেবল ধর্মের নামেই নয় আঞ্চলিকতার প্রশ্ন এনেও নির্দোষ, নিরপরাধ মানুষের উপর হামলা চালানো হচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে হিংসার পরিবেশ গড়ে তুলে ভোট ব্যাঙ্ক অক্ষত রাখার কোনো চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে ধর্মনিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবীরা সন্দেহ প্রকাশ করছেন।

বাংলাদেশে নির্বাচিত কোনো সরকার না থাকায় এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তলানিতে নেমে এসেছে। সংগ্রামী যুবক ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি খুবই খারাপ হয়ে পড়ে। হাদি হত্যার দায় চাপানো নিয়ে বেশ কিছু রাজনৈতিক তরজা হয়েছে। এরপর হাদীর ভাই নিজেই জানিয়েছেন ইউনুস তাকে খুন করিয়েছেন। এবং খুনিরা দুবাইতে পালিয়ে গেছে। যদিও খুনিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে বলে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল। এতেই বুঝা যায় সবগুলো ঘটনার দায় ভারতের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়ার একটা অশুভ সংকেত দেওয়া হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের উপর ধারাবাহিক আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে। কেবল হত্যা নয় ঘরবাড়ি ভাঙচুর , লুটপাট এবং জমি দখলের মতো ঘটনাগুলি এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। রংপুর জেলার পীরগঞ্জে ধনেশ্বর বর্মনের জমি দখল করা হয়েছে। এর আগে ময়মনসিংহে পাকা ধানের ক্ষেতে আগুন লাগিয়ে কৃষককে সর্বস্বান্ত করে দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহে ইসলামবিরোধী কথা বলার অভিযোগ এনে দিপুচন্দ্র দাস কে প্রকাশ্য রাজপথে পিটিয়ে তারপর জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর অমৃত মণ্ডল এবং বজেন্দ্র দাস নামের দুই যুবককে খুন করা হয়েছে। এইসব মামলায় পুলিশ রক্ষকের ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। হলে সন্দেহ করা যেতেই পারে যে পুলিশের প্রচ্ছন্ন মধ্যতেই দুষ্কৃতীরা এই ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস পাচ্ছে। এসব ঘটনার ফলে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যথেষ্ট ম্লান হয়েছে। আমেরিকায় এর প্রতিবাদ হয়েছে, কানাডার এক সাংসদ তাদের সংসদে এই ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে বিবৃতি দিয়েছেন এবং নিন্দা জানিয়েছেন। অন্যান্য দেশেও এসব ঘটনার কঠোর নিন্দা করা হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন এসব ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের কঠোর সাজা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ভারত সরকারও প্রথাগতভাবে বাংলাদেশ সরকারের উপর এ বিষয়ে যথাযথ চাপ সৃষ্টি করেছে। এই ধরনের খন্ড খন্ড অপরাধের ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারবে কিনা বাংলাদেশ সরকার তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ বা সেনাবাহিনীর ওই দেশে এখন ভূমিকা কতটা সক্রিয় এনিয়েও সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।

আমাদের দেশের নানা স্থানেও এই ধরনের খন্ড খন্ড হিংসার ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলায় কথা বলার দায়ে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি তকমা সেঁটে  ওড়িশা ,দিল্লি ,রাজস্থান ,গুজরাট ইত্যাদি রাজ্যে নিগ্রহ করা হচ্ছে। অরুণাচল থেকে বাংলাদেশি বিতরণের লক্ষ্যে জনতা হুঙ্কার ছাড়ছে। মসজিদে গিয়ে ধর্মীয় নেতাদের অরুণাচল ছাড়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশী সন্দেহে যাদের আটক করছে কোনো কোনো রাজ্যের  পুলিশ তাদের সীমান্তে গিয়ে ছেড়ে দিয়ে আসছে। এক্ষেত্রে আইনানুম যে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সংখ্যালঘু নিপীড়নের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাকে অভ্রান্ত বলে উড়িয়ে দেওয়ার উপায় নেই। কোনও বাংলাদেশী যদি অবৈধভাবে এদেশে প্রবেশ করে থাকে তাহলে তাদের সরকারি প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিতরণ করার আইন রয়েছে। কিন্তু সে পথে না গিয়ে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ নিজেরাই আদালতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে আটক ব্যক্তিদের বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়ে যাচ্ছে। অসমে বাংলাদেশী সনাক্ত হওয়ার পর তাদের সীমান্তে নিয়ে  পুশ ব্যাক করা হচ্ছে। এটা  যুক্তিগ্রাহ্য বিষয় কিনা তা কিছুটা সংশয়ের সৃষ্টি করে থাকে। কারণ ট্রাইবুনাল গুলিতে যাদের বিদেশি বলে চিহ্নিত করা হয় তারা প্রত্যেকেই প্রকৃত বিদেশী কিনা এ নিয়ে সন্দেহ থাকা অস্বাভাবিক নয়। কারণ ট্রাইবুনালের রায়ে ঘোষিত অনেকেই পরবর্তীকালে হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট থেকে বিদেশির তকমা মুক্ত হতে পেরেছেন। কাজেই ট্রাইবুনালের রায় হওয়া মাত্রই কোনো ব্যক্তিকে বিদেশি বলে সনাক্ত করে সীমান্তে পুব্যাক করা অমানবিক ঘটনা ছাড়া আর কিছু নয়।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বর্তমানে যে বাঙালি বিদ্বেষী মনোভাব গড়ে উঠেছে এটা হিন্দু মুসলিম উভয় ধর্মীয় বাঙালিদের সমস্যার যাঁতাকলে পৃষ্ঠ করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র। পশ্চিমবঙ্গকে বাগি আনার জন্য শাসক দল যদি এই পদ্ধতিকে বিশ্বাস করে এগিয়ে যেতে চায় তাহলে তাদের অনেক খেসারত দিতে হতে পারে। শিল্প সংস্কৃতিতে সচেতন বাঙালিরা কখনোই আগ্রাসনবাদী নয় কিন্তু নিজেদের উপর খাড়া নেমে এলে এর প্রতিবাদ মুখর হওয়ার ক্ষমতা বাঙালিদের রয়েছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের পট ভূমিকায় বাঙালিদের যে বীরত্বের পরিচয় রয়েছে সে কথাটা কেউ যদি ভুলে যেতে চায় তাহলে তাদের চিন্তার দৈনতাই প্রকাশ পাবে। হিন্দি বলয় থেকে যে আগ্রাসী মনোভাব দেখানো হচ্ছে এবং এক ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার যে ষড়যন্ত্র চলছে এর পরিণতি ভালো নয়। দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি থেকে হিন্দি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই হুংকার ছাড়া হয়েছে। কারণ ভারতীয় সংবিধানে প্রতিটি আঞ্চলিক ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ভারতের এই আঞ্চলিক ভাষাগুলির মধ্যে অধিকাংশ ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা লাভ করেছে। কাজেই এই ভাষাগুলিকে কোনঠাসা করে কেবলমাত্র হিন্দির আধিপত্যবাদ বিস্তারের প্রচেষ্টা কখনোই সফল হতে পারবে না। মজার কথা হল কয়েকদিন আগে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক  সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্পষ্টই বলেছেন দেশের মানুষ যেন তাদের আঞ্চলিক মাতৃভাষায় কথাবার্তা বলেন। প্রত্যেকেরই নিজ নিজ মাতৃভাষার প্রতি যত্নবান হওয়া একান্ত কর্তব্য।

অসমেও বাঙালিদের কোণঠাসা করে রাখার জন্য নানা ধরনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বরাক উপত্যকার মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা হচ্ছে। এ অঞ্চলের মানুষের গণদাবি শিলচর রেলওয়ে স্টেশনকে ভাষা শহিদ স্টেশন নামকরণ করা। কিন্তু রাজ্য সরকারের কূট চলে এটা এখনও সম্ভব হচ্ছে না। এ নিয়ে মানুষের মনে ক্ষোভের পারদ চড়তে শুরু করেছে। শিলচরে উড়ালপুল নির্মাণের প্রশ্ন জল ঘোলা করার জন্য সরকার জনতার কোর্টে বল ঠেলে দিয়েছিল। তবে শিলচরের সচেতন মানুষ সাক্ষর অভিযান সহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে উড়ালপুলের স্বপক্ষেই মত প্রকাশ করেছে। এটা উল্লেখ করলাম এজন্যই যে এই অঞ্চলের প্রতি ধারাবাহিক বৈষম্যের পথ থেকে সরে আসার তেমন সদিচ্ছা বর্তমান রাজ্য সরকারের নেই। হ্যাঁ, রাস্তাঘাট উন্নয়নের কিছু কিছু কাজ হলেও এ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন তা কিন্তু নেওয়া হচ্ছে না। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে এই উপত্যকার শিক্ষিত বেকারদের বঞ্চিত করে রাখা হচ্ছে। ফলে শিক্ষিত বেকাররা ই-অটো বা ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে কোন মত জীবিকা নির্বাহ করছে। এই উপত্যকার শিক্ষিত বেকারদের কি মেধা নেই,  এই প্রশ্ন করার সময় এসেছে।  ভারতের অন্যান্য রাজ্য এবং বিশ্ব পর্যায়ে বরাকের মেধাবীরা কর্মসংস্থান খুঁজে নিতে পারছে। তাহলে এ রাজ্যে কেন পারবে না এ  নিয়ে সবাইকে ভাবতে হবে। এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে এ অঞ্চলকে উপেক্ষার দৃষ্টিতে দেখার মানসিকতা।

সবশেষে একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন যে কোনও দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে নিরাপত্তা দেওয়া সেই দেশের সংখ্যাগুলোদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এ কথাটা কেবল ভারত ও বাংলাদেশ নয় বিশ্বের প্রতিটি দেশের মেনে চলা কর্তব্য। মানুষ হিসাবে প্রত্যেকেরই নিজ নিজ অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা অমানবিক কাজ। যেসব অপশক্তি এই ধরনের কাজ করে সমাজে উশৃংখল পরিস্থিতি, হিংসার বাতাবরণ এবং বিদ্বেষ ভাব গড়ে তুলে মানুষে মানুষে বিভাজনের চেষ্টা করে এর পরিণতি কখনোই সুখকর হয় না। কারণ, প্রকৃতি তার নিজ উপায়ে এসবের প্রতিশোধ নিয়ে থাকে। বিভিন্ন খন্ড খন্ড ঘটনাগুলি পর্যালোচনা করলে এবং এর পরিণতি গুলি সম্পর্কে খোঁজ খবর করলেই এই বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে পড়ে। বর্তমান সময়ে তাই প্রত্যেকেরই উচিত এসব অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে মতামত গড়ে তুলে জনসাধারণের মধ্যে ঐক্য সংহতির বাতাবরণ বজায় রাখায় এগিয়ে আসা। ধর্ম,ভাষা, সম্প্রদায় এগুলি ব্যক্তিগত বিষয় এগুলিতে বিভাজন এনে রাষ্ট্রের কোনো উন্নতি হওয়া সম্ভব নয়। সেটা ভারত হোক বাংলাদেশ হোক বা বিশ্বের অন্য কোন রাষ্ট্র। মানুষের মধ্যে সন্ত্রাসী মনোভাব গড়ে তোলার পিছনে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির হাত বরাবরই ছিল এখনো রয়েছে। বিভিন্ন দেশকে পদানত করে রেখে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় মগ্ন সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির আস্ফালন এখন ক্রমেই যেন বাড়ছে। ভেনেজুয়ালাতে মার্কিন আগ্রাসন এর একটি উদাহরণ মাত্র। এই ধরনের অজস্র ঘটনা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে চলেছে। হলে আঞ্চলিক বৈষম্য ভুলে মানুষকে বিশ্বমানবতার নীতি গ্রহণের মধ্য দিয়ে ঐক্যবদ্ধ করে তোলার প্রয়াস নেওয়া খুবই প্রয়োজন। দেশকাল ভেদে মানবতাই চিরস্থায়ী হবে আর বাকি সব বিফল বলে প্রতিপন্ন হবে। ভারত ও বাংলাদেশ বন্ধু রাষ্ট্র ছিল কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলির চক্রান্তে পা দিয়ে বাংলাদেশের কিছু মানুষ গন্ডগোল বাধালে এই বন্ধুত্বের কিছুটা চির ধরেছে। তবে ভবিষ্যতে ফের ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠবে না এটা কেউ হলফ করে বলতে পারবেন না। ওই দেশে সরকার গঠিত হলে এই দুই রাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক পুনর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তখন, উভয় দেশের মানুষের মধ্যে নৈতিক চেতনার পরিবর্তন ঘটবে। এর ফলে হিংসাত্মক ঘটনাও ধীরে ধীরে নির্মূল হতে থাকবে। এ ব্যাপারে আমি আশাবাদী।
(মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *