মাকে হুইলচেয়ারে নিয়ে ভোট, উত্তর করিমগঞ্জের প্রার্থী  সুব্রত ভট্টাচার্যের

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।  
বরাক তরঙ্গ, ৯ এপ্রিল : “মা-স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভোট মানবিকতায় এগিয়ে প্রার্থী সহ পরিবারিক ভোটদানে অনন্য দৃষ্টান্ত করিমগঞ্জে আলোচনায় বিজেপির প্রার্থী। উত্তর করিমগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণে বৃহস্পতিবার সকালে দেখা গেল এক অনন্য, আবেগঘন ও অনুপ্রেরণামূলক দৃশ্যযা শুধু ভোটদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং গণতন্ত্রের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে রইল।বৃহস্পতিবার সকালে বিজেপি প্রার্থী সুব্রত ভট্টাচার্য তাঁর আশি বছরের বৃদ্ধা মাতাকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে এবং সহধর্মিণীকে পাশে নিয়ে পৌঁছে যান শ্রীভূমি ডিআইসি অফিসে স্থাপিত ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে। সকালের নরম আলোয়, সাধারণ মানুষের ভিড়ের মাঝে এই দৃশ্য যেন এক আলাদা বার্তা বহন করছিল পরিবার, দায়িত্ব ও গণতন্ত্র তিনের এক সুন্দর মেলবন্ধন।ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সময় উপস্থিত সাধারণ ভোটারদের চোখে পড়ে এই দৃশ্য। একজন প্রার্থী হিসেবে নয়, বরং একজন স্নেহশীল পুত্র এবং দায়িত্বশীল পরিবারের সদস্য হিসেবে সুব্রত ভট্টাচার্যের এই পদক্ষেপ অনেকের মন ছুঁয়ে যায়। বৃদ্ধা মাকে নিজের হাতে হুইলচেয়ারে ঠেলে নিয়ে যাওয়া—এই মুহূর্তটি যেন নিঃশব্দে বলে দিল, গণতন্ত্র শুধু রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, এটি পারিবারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতারও প্রতিফলন।ভোট প্রদান শেষে তিনজনই যখন বাইরে বেরিয়ে আসেন, তখন সংবাদ মাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।

সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, “গণতন্ত্রের এই মহোৎসবে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। বয়স বা শারীরিক সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা হতে পারে না। আজ আমার মা নিজে ভোট দিয়েছেন—এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়। আমি আশাবাদী, মানুষ উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে রায় দেবেন।এই সময় তাঁর বৃদ্ধা মা-ও আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “ভোট দেওয়া আমাদের অধিকার। যতদিন পারি, এই অধিকার পালন করব।” তাঁর এই কথায় যেন ফুটে উঠল এক প্রজন্মের দায়িত্ববোধ ও গণতন্ত্রের প্রতি অটল আস্থা।

সহধর্মিণীও জানান, পরিবারের সকলের একসঙ্গে ভোট দিতে আসা তাঁদের কাছে একটি বিশেষ অনুভূতি। তিনি বলেন, “আমরা চাই সবাই এগিয়ে এসে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। এটাই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। এই পুরো ঘটনাকে ঘিরে ভোটকেন্দ্রে এক ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকেই এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং বলেন, এমন দৃশ্য সমাজে সচেতনতা বাড়ায়। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এটি এক বড় অনুপ্রেরণা যে ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো বাধাই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। উত্তর করিমগঞ্জের এই ঘটনাটি তাই শুধুমাত্র একটি ভোটদানের খবর নয়, বরং এটি এক মানবিক গল্প যেখানে পরিবার, দায়িত্ববোধ এবং গণতন্ত্র একসঙ্গে মিশে গিয়ে তৈরি করেছে এক হৃদয়স্পর্শী মুহূর্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *