বরাক তরঙ্গ, ২২ জানুয়ারি: কোকরাঝাড়ে গোষ্ঠী সংঘর্ষের উত্তেজনা কাটতে না কাটতেই ফের অশান্তির ছায়া পড়ল মঙ্গলদৈ জেলায়। মঙ্গলদৈ শহরের একাধিক এলাকায় বুধবার গভীর রাতে অজানা দুষ্কৃতীরা পরপর মন্দিরে ঢুকে প্রতিমা ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনায় গোটা মঙ্গলদৈ জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে দুর্বৃত্তরা চেরেং মন্দির, গেরীমারী কালী মন্দির, নোয়ানদী কালী মন্দির-সহ মোট ১৬টি মন্দিরে হামলা চালায়। মন্দিরগুলিতে স্থাপিত প্রতিমা ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও মন্দির প্রাঙ্গণে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিভিন্ন মন্দিরে ধর্মপ্রাণ মানুষ ভিড় জমান। তাঁরা এই বর্বর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি তোলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই এই ভাঙচুর চালানো হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এক রাতেই এতগুলো মন্দিরে ভাঙচুর কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা নয়। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করুক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিক।”
খবর পেয়েই মঙ্গলদৈ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শনের পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদও শুরু হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলদৈ জুড়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানালেও, একই সঙ্গে ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি তুলেছেন।



