মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৩ নভেম্বর : মাদক পাচারচক্রের স্বপ্নভঙ্গ! পুলিশের তৎপরতায় ত্রিপুরা থেকে অসমে পাচারের পথে ধরা পড়ল বিশাল চালান। বাজারিছড়া থানাধীন কাঁঠালতলি ওয়াচ পোস্টের সাহসী অভিযানে উদ্ধার হলো প্রায় পাঁচ কুইন্টাল গাঁজা, যার বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা!
দীর্ঘ বিরতির পর ফের মাদকবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেল বাজারিছড়া থানাধীন কাঁঠালতলি ওয়াচ পোস্টের তৎপর পুলিশ দল। জানা গেছে, এদিন বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে টিআর ০৫ জে ১৮০৭ নম্বরের একটি বোলেরো পিকআপ ভ্যান ত্রিপুরা থেকে বিকল্প পথ ধরে পাথারকান্দি অভিমুখে যাচ্ছিল। পুলিশের ধারণা, এই গাড়িটি গোপনে বিপুল পরিমাণ মাদক বহন করছিল।
কাঁঠালতলির ওয়াচ পোস্ট এলাকায় পৌঁছলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা গাড়িটিকে থামানোর সংকেত দেয়। কিন্তু চালক সংকেত উপেক্ষা করে দ্রুতগতিতে গাড়িটি চালিয়ে পালিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ওয়াচ পোস্টের ইনচার্জ কবির আহমদ বড়ভূইয়া নেতৃত্বে পুলিশ দল অন্য একটি গাড়িতে করে ধাওয়া শুরু করে।
পুলিশের তাড়া খেয়ে পাচারচক্রের গাড়িটি সোনাখিরা পুলিশ চেকপোস্টের ব্যারিকেডও অমান্য করে সামনের দিকে ছুটে যায়। অবশেষে, ধাওয়া করতে থাকায় আতঙ্কে গাড়িচালক ও সহচালক সোনাখিরা রেলওয়ে ব্রিজের পাশে গাড়িটি ফেলে পালিয়ে যায়।
এরপর ঘটনাস্থলে কো-এসপি অনির্বাণ শর্মা, বাজারিছড়া থানার ওসি আনন্দ মেধি এবং এসআই প্রভাকর চৌধুরীর নেতৃত্বে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। তল্লাশির সময় বোলেরো গাড়িটির ভেতরে বরফে রাখা মাছবিহীন বিভিন্ন কার্টনের নিচ থেকে একাধিক প্যাকেটে শুকনো গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া গাঁজার ওজন প্রায় পাঁচ কুইন্টাল, যার বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা।
পুলিশ জানিয়েছে, পাচারচক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ত্রিপুরা-আসাম সীমান্ত পথে সক্রিয়। এরা নিয়মিতভাবে বিকল্প গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে গাঁজা পাচার করে থাকে, যাতে মূল মহাসড়কের পুলিশ নজর এড়িয়ে যাওয়া যায়।
ঘটনাস্থল থেকে পলাতক দুই পাচারকারীর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত হওয়া গাড়ির নথিপত্রের সূত্র ধরে পাচারচক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় বাজারিছড়া থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
কো-এসপি অনির্বাণ শর্মা বলেন, এটি বাজারিছড়া থানার পুলিশের জন্য একটি বড় সাফল্য। পাচারকারীদের ধরতে তদন্ত জারি রয়েছে, খুব শিগগিরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হবে।
স্থানীয় মহলের মতে পুলিশের এই সফল অভিযানের প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এ ধরনের অভিযান চলতে থাকলে এলাকায় মাদক পাচারের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমে আসবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ত্রিপুরা-অসম সীমান্তে মাদক পাচারের রুট আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই পুলিশের নজরদারি ও টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।



