বরাক তরঙ্গ, ২৭ জানুয়ারি : গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে সোমবার উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে দেশের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায়, নিবন্ধক ড. বিদ্যুৎ কান্তি পাল এবং শৈক্ষিক নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগের অধ্যাপক, অধ্যাপিকা, আধিকারিক, শিক্ষা কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীরা।
উপাচার্য অধ্যাপক নিরঞ্জন রায় বলেন, এক সময়ের অত্যন্ত উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ ভারতের কিছু দুর্বলতার জন্য ব্রিটিশ ভারতের সম্পদ লুণ্ঠন করতে ভারতের প্রবেশ করে ও আমাদের দেশকে পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ করে। ১৯৪৭ সনে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও বেশ কয়েক দশক ভারত বিদেশের উপর বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু আজকের ভারতবর্ষ এক আত্মনির্ভর দেশ হওয়ার পথে দ্রুত এগিয়ে চলেছে আর তাই দেশের যুবসমাজকে দক্ষতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে বিকশিত ভারতে পরিণত করতে আজকের প্রজন্মকে দায়িত্ব নিতে হবে। সংবিধানে নাগরিকদের যে অধিকার দেওয়া হয়েছে সেই সঙ্গে দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। যুব প্রজন্মকে দায়িত্ব নিয়ে বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে পৌছে দিতে সব ধরনের কর্তব্য পালন করে যেতে হবে।
নিবন্ধক ড. বিদ্যুৎকান্তি পাল বলেন, স্বাধীনতা কেড়ে নিতে হয়, সেটি অর্জন করতে হয়। স্বাধীনতা কখনও কারও আবেদন বা নিবেদনের মাধ্যমে আসে না। সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ আমরা যেমন স্বাধীনতা পেয়েছি, তেমনই অসচেতন হলে তা হারিয়েও ফেলতে পারি। আমাদের পারিপার্শ্বিক সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি।
শৈক্ষিক নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ স্বদেশী হয়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের জীবনে স্বদেশী ভাবনাকে গ্রহণ করতে হবে। দেশীয় পণ্য ব্যবহার, দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মধ্য দিয়েই প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতাকে রক্ষা করা সম্ভব। নতুন শিক্ষা নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই শিক্ষা নীতিতে মাতৃভাষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যার যে ভাষাই হোক না কেন, সেই ভাষাকে সম্মান করতে হবে। যদি আমরা নিজের মাতৃভাষাকেই সম্মান দিতে না পারি, তবে দেশকে কীভাবে সম্মান করব।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সমবেত কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।



