জেল ভেঙে পালানো চার বন্দির মধ্যে তিনজন গ্রেফতার, একজন এখনও পলাতক: পুলিশ

বরাক তরঙ্গ, ৪ ফেব্রুয়ারি : অসমের শদিয়া জেলা জেল থেকে বুধবার সকালে পালিয়ে যাওয়া চার জন বিচারাধীন বন্দির মধ্যে তিন জনকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এখনও এক জন বন্দি পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শদিয়ার সিনিয়র সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) জগদীশ দাস জানান, নবীন বুড়াগোহাঁই, অমলজ্যোতি চেতিয়া, শশাধর দেওরি ও হুন্তু সোনোয়াল—এই চার জন বন্দি চুরির মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলে ছিলেন। বুধবার সকালে তাঁরা জেলের প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার পরপরই তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়। সন্ধ্যার মধ্যে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। তবে শশাধর দেওরি এখনও পলাতক রয়েছেন।

“আমরা সঙ্গে সঙ্গে তল্লাশি অভিযান শুরু করি। তিন জনকে আটক করা হয়েছে। চতুর্থ জনকেও শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে বলে আমরা আশাবাদী,” বুধবার সন্ধ্যায় হিন্দুস্তান টাইমস-কে বলেন এসএসপি দাস।

জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কীভাবে বন্দিরা পালাতে সক্ষম হল, তা প্রাথমিক তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট করা হবে।

ঘটনার সঙ্গে জেল কর্মীদের কোনও গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

এর আগেও শিলচর সহ অসমের বিভিন্ন জেলা জেল থেকে বন্দি পালানোর ঘটনা সামনে এসেছে। সেই সব ঘটনার পর রাজ্য সরকার জেলগুলির পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা জানিয়েছিল। কিছু জেলে সংস্কার ও মেরামতির কাজও শুরু হয়েছে।

এর পাশাপাশি, দুই বছর আগে ডিব্রুগড় জেল থেকে মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় জেল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ওই সময় খালিস্তানি নেতা অমৃতপাল সিং ওই জেলে বন্দি ছিলেন। ঘটনার পর কয়েক জন আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়।

চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি গুয়াহাটিতে অসম পুলিশের দুই জওয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ ছিল, তাঁরা গুয়াহাটি সেন্ট্রাল জেলের বন্দিদের কাছে মাদক ও মদ সরবরাহ করছিলেন। পুলিশের অভিযোগের ভিত্তিতে হওয়া অভ্যন্তরীণ তদন্তে ওই দুই জওয়ানের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। পুলিশ জানিয়েছে, এই সব ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্ত চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *