লোয়াইরপোয়ায় আটক পাথরবাহী লরি রহস্যজনকভাবে মুক্ত, প্রশ্নের মুখে রেঞ্জ অফিস

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৩০ নভেম্বর : দীর্ঘদিন ধরেই পাথারকান্দির লোয়াইরপোয়া–বাজারিছড়া সড়কটিকে ঘিরে চলছে অবৈধ উপায়ে চিপস পাথর পাচারের অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, এই রুটটি এখন প্রায় ‘কোরিডরে’ পরিণত হয়েছে, যেখানে রাতের অন্ধকারকে ঢাল করে নিয়মিতভাবে চলছে পাথর পাচারের কারবার।

কাগজের চেয়ে অতিরিক্ত পাথর! সাংবাদিকদের সামনে ধরা পড়েও ছাড় পেয়ে গেল লরি

ঘটনা রবিবার রাতের। এমজেড (০১ কিউ–২৯১২) নম্বরের একটি চার চাকার লরি, যাতে অতিরিক্ত পরিমাণে পাথর বোঝাই ছিল, সেটিকে আটক করে লোয়াইরপোয়া ফরেস্ট রেঞ্জের কর্মীরা। খবর পেয়ে কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। লরিটির চালকের কাছে কাগজপত্র যাচাই করতে গিয়ে জানা যায় নথিতে যে পরিমাণ পাথর পরিবহনের অনুমতি ছিল, গাড়িতে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি পাথর বোঝাই রয়েছে।

এরপর শুরু হয় তদন্ত। দায়িত্বপ্রাপ্ত রেঞ্জার প্রাঞ্জল দাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে—তদন্ত শুরুর আগেই ও নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তিনি লরিটিকে ছেড়ে দেন। এতে ক্ষোভ বাড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। অনেকের মতে, এ ধরনের অবৈধ কার্যকলাপকে প্রশ্রয় দেওয়ার ফলেই দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে পাথর মাফিয়ারা।

ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পরে এই অভিযোগ সরাসরি জানানো হয় সংশ্লিষ্ট ডিএফও, এসিএফসহ স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রীর কাছেও। বন বিভাগের অভ্যন্তরে এই ঘটনার পর নড়চড় পড়েছে বলে সূত্রের দাবি। বহুদিন ধরে চলা পাথর পাচারের বিরুদ্ধে এবার কি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অন্যদিকে, সচেতন মহলের বক্তব্য যদি প্রশাসন কড়াভাবে নজরদারি না বাড়ায়, তবে এই পুরো অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ড্রাই রিভারবেড থেকে নির্বিচারে পাথর উত্তোলনের ফলেই নদী ও বনাঞ্চলের উপর বাড়ছে দূর্যোগের আশঙ্কা।স্থানীয় অনেকেই কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *