বরাক তরঙ্গ, ১০ এপ্রিল : অসমের চা-বাগান অঞ্চলে শিক্ষার প্রসারে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উদ্যোগে ইতিবাচক পরিবর্তনের ছবি স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। প্রান্তিক এলাকাগুলিতে শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে গড়ে ওঠা চা-বাগান মডেল স্কুলগুলির সাফল্য এবার প্রতিফলিত হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে। এর উজ্জ্বল উদাহরণ রামকৃষ্ণনগর শিক্ষাখণ্ডের মুক্তিযোদ্ধা পিতাম্বর কুর্মি আদর্শ বিদ্যালয় (প্রাক্তন গম্ভীরা চা-বাগান মডেল স্কুল)।
এবারের পরীক্ষায় বিদ্যালয় থেকে ৮০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়, যার মধ্যে ৫৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। ৭২.৫ শতাংশ পাসের হার চা-বাগান এলাকার প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য হিসেবে ধরা হচ্ছে। উত্তীর্ণদের মধ্যে ১০ জন প্রথম বিভাগ, ৩০ জন দ্বিতীয় বিভাগ এবং ১৮ জন তৃতীয় বিভাগে পাশ করেছে। পাশাপাশি ৩২ জন পরীক্ষার্থী লেটার মার্কস এবং ৫ জন স্টার মার্কস অর্জন করে বিদ্যালয়ের কৃতিত্ব আরও বাড়িয়েছে।
ভাষা বিষয়ে চার ছাত্রীর অসাধারণ সাফল্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রিয়া দাস ও পঞ্চমী নাথ বাংলা বিষয়ে পূর্ণ ১০০ নম্বর অর্জন করেছে। অন্যদিকে জ্যোতিকা কোহার ও সোনাক্ষী দাস সংস্কৃত বিষয়ে ১০০-তে ১০০ পেয়ে অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এই সাফল্য প্রমাণ করে, উপযুক্ত সুযোগ ও পরিকাঠামো পেলে চা-বাগান এলাকার ছাত্রছাত্রীরাও রাজ্যের সেরা স্কুলগুলির সঙ্গে সমান তালে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।
বিদ্যালয়ের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিরলস পরিশ্রম ও দায়বদ্ধতা। সীমিত পরিকাঠামোর মধ্যেও তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের ব্যক্তিগতভাবে নজর দিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগের সঙ্গে শিক্ষকদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই আজ ফলপ্রসূ হয়েছে।
তবে সাফল্যের মাঝেও রয়েছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ—বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকার ঘাটতি। প্রয়োজনের তুলনায় কম সংখ্যক শিক্ষক নিয়ে পাঠদান চালাতে হচ্ছে। স্থানীয় মহলের দাবি, দ্রুত স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করা হলে আগামী দিনে এই সাফল্যের হার আরও বাড়বে।
গম্ভীরা চা-বাগান মডেল স্কুলের এই কৃতিত্ব আবারও প্রমাণ করল, সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা থাকলে চা জনজাতির শিক্ষার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।



