নেপালে মহানির্বাচন, ওলি বনাম জেন জেড সংঘাতের চূড়ান্ত পরীক্ষা আজ

Spread the news

৫ মার্চ : গত সেপ্টেম্বরের রক্তক্ষয়ী ছাত্র আন্দোলন এবং কেপি শর্মা ওলি সরকারের পতনের পর আজ, বৃহস্পতিবার এক অগ্নিপরীক্ষার মুখে নেপাল। ১৮.৯ মিলিয়নেরও বেশি ভোটার আজ বেছে নেবেন দেশের ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি সভাকে (Nepal Election 2026)। গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানে ৭৫ জনের মৃত্যুর ক্ষত এখনও টাটকা, আর সেই প্রেক্ষাপটেই এই নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে নেপালের পুরোনো রাজনৈতিক শক্তি বনাম জেন জেড (Gen Z) প্রজন্মের এক গণভোট হিসেবে।

সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ, যা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ১০,৯৬৭টি বুথে কড়া নিরাপত্তায় চলছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। মোট ২৭৫টি আসনের মধ্যে ১৬৫টিতে সরাসরি ভোট (First-past-the-post) হচ্ছে এবং বাকি ১১০টি আসন পূরণ হবে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে। নির্বাচনের ফলাফল দ্রুত ঘোষণা করতে হেলিকপ্টারে করে দুর্গম এলাকা থেকে ব্যালট বক্স আনা হচ্ছে।

এই নির্বাচনের মূল আকর্ষণ দুই মেরুর লড়াই। একদিকে রয়েছেন ৭৫ বছর বয়সি পোড়খাওয়া নেতা কেপি শর্মা ওলি (KP Sharma Oli)। অন্যদিকে, কাঠমান্ডুর জনপ্রিয় মেয়র তথা র‍্যাপার বালেন্দ্র শা (Balen Shah) ওলির খাসতালুক ঝাপা-৫ আসন থেকেই তাঁকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। এছাড়াও গগন থাপার মতো তরুণ মুখকে সামনে রেখে লড়াইয়ে রয়েছে নেপালি কংগ্রেস। রবি লামিছানের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (RSP) নিজেদের তুলে ধরছে আন্দোলনের আসল কণ্ঠস্বর হিসেবে।

২০২৫ সালের ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে উত্তাল হয়ে উঠেছিল কাঠমান্ডু। সেই গণ-আন্দোলনের মুখে ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌড়েল সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। আজ সেই ‘রাস্তার লড়াই’ ব্যালট বক্সের মাধ্যমে ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছাতে পারে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দক্ষিণ এশিয়া। শান্তি বজায় রাখতে দেশজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে ৩ লক্ষ নিরাপত্তা কর্মী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *